দিন শুরু হয়েছিল ৩০০ রানের লিডের আশা নিয়ে। লিড নেবে কী, রানই ৩০০ হলো না। তাতে মাত্র ১৭৪ রানের লক্ষ্য দিয়ে হারের প্রস্তুতি সেরেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। দারুণ দাপটে জিম্বাবুয়ে ,ম্যাচটা একপেশে করে তুলল। যখন ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ শেষ হবো হবো করছে, তখন অতি নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ।
কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, তিনদিনের ব্যর্থতা এক সেশন দিয়ে ঢাকতে পারেনি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দর্শকের সংখ্যায় আজও যে খুব একটা বেড়েছে এমন না, তবে প্রথম তিন দিনের তুলনায় আজ অন্তত টিভি ক্যামেরায় তাদের উপস্থিতি বেড়েছে। দিনের প্রথম দুই সেশনে যা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছিল দেশের ক্রিকেটের প্রতি এমন টান দেখিয়ে তারা অপরাধই করেছেন বোধহয়।
বৃষ্টিবিঘ্নিত চতুর্থ দিনে লাঞ্চের আগেই অলআউট বাংলাদেশ। ১৭৪ রানের লক্ষ্যে চা-বিরতির আগে বিনা উইকেটেই অর্ধেকের বেশি রান তুলে ফেলেছিল জিম্বাবুয়ে। চা-বিরতির আগে দুটি উইকেট পড়লেও ততক্ষণে জিম্বাবুয়ে ও জয়ের দূরত্ব মাত্র ৫৭ রান।
চা-বিরতির পর যা হলো, তাতে অন্তত পয়সা উশুল দর্শকদের। আলো কমে আসছিল, বাংলাদেশি স্পিনারদের বলও যেন চোখে দেখছিলেন না জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। সে সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের ভুল সিদ্ধান্ত মিলিয়ে ‘মরে’ যাওয়া ম্যাচই হঠাৎ সব আগ্রহ জাগিয়ে তুলল।
চা-বিরতির আগে নিক ওয়েলচকে তাইজুল যেভাবে আউট করেছিলেন, তখনই মনে হয়েছিল ম্যাচটা জমে উঠতে পারে। টানা কয়েকটি বল স্পিন করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ একটি আর্ম বল ভেতরে ঢুকলে এলবিডাব্লিউ হয়ে যনা জিম্বাবুয়ের নাম্বার থ্রি।
সিলেটের উইকেটে বল মাঝেমাঝেই নিচু হয়েছে দ্বিতীয় দিন থেকেই। কিন্তু চা-বিরতির পর বাংলাদেশের আশা জাগল লাফিয়ে ওঠা এক বলে। মিরাজ একটি বলে ফ্লাইট দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটা উইকেটে পড়ে বাড়তি বাক না নিয়ে নিল বাড়তি বাউন্স। আগেই লেগ সাইডে শট খেলার সিদ্ধান্তটা কাল হলো উইলিয়ামসের, বল এজ হয়ে শান্তর হাতে।
১২৭ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন, লক্ষ্য তখনো ৪৭ রান দূরে। কিন্তু উইকেটে মাত্রই নেমেছেন অধিনায়ক নেমেছেন, অন্যপ্রান্তে প্রথম ইনিংসের মতোই ফিফটি পাওয়া ব্রায়ান বেনেট ছিলেন। কিন্তু মিরাজের পরের ওভারেই হাস্যকরভাবে লং অনে ক্যাচ দিয়ে বেনেট ম্যাচটা জমিয়ে দিলেন।
ক্রেইগ আরভিন কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও ফিরে গেছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ককে ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। পরের ওভারেই মিরাজের বল বুঝতে না পেরে বোল্ড মায়াভো।
তখনো ২৯ রান দরকার জিম্বাবুয়ের, হাতে উইকেট ৪টি। ততক্ষণে মাঠে অন্ধকার পুরোপুরি নেমে এসেছে। ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে তবু খেলা চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু ওয়েলিংটন মাসাকাদজা পালটা আক্রমণ করে লক্ষ্যটা কমিয়ে আনলেন। সেই মাসাকাদজাকে আউট করে আবার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেন মিরাজ। মাঠে তখন এমনই অন্ধকার যে এই বাঁহাতি স্পিনার বোল্ড হয়েছেন নাকি স্টাম্পড- সেটা বুঝতে তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য দরকার হলো। মনে হচ্ছিল, বাকি ১৩ রান তোলার আগেই হয়তো অলআউট হয়ে যেতে পারে জিম্বাবুয়ে।
মাধভেরে ও এনগারাভা তাই টিকে থাকার চেষ্টা করেননি। ৮ বলের মধ্যে তিনটি চারে ম্যাচ বের করে নিয়েছেন দুজন। ম্যাচে মিরাজের ১০ উইকেটপ্রাপ্তিই পাওয়াটাই সিলেটে বাংলাদেশের একমাত্র অর্জন হয়ে থাকল।