আম্পায়ারের ওপর মেজাজ হারানো প্রসঙ্গে গিল

যখন আপনি ১১০ শতাংশ দেবেন, আবেগ প্রকাশ পাওয়াটাই স্বাভাবিক

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে গতকাল শুক্রবারের ম্যাচে শুবমান গিল যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন, তাতে সেঞ্চুরি সহজেই পেতে যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ইনিংসের ১৩তম ওভারের শেষ বলে রান আউটে ৭৬ রানে থেমে যেতে হয় ডানহাতি ওপেনারকে। তবে সে রান আউট নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ নেই।

ওটা আসলেই রান আউট ছিল কিনা, এ নিয়ে রীতিমতো দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে বিশ্লেষকেরাও। তৃতীয় আম্পায়ারের নেওয়া বিতর্কিত সে সিদ্ধান্তটি মানতে পারেননি গিলও। রাগে গজরাতে গজরাতে মাঠ ছাড়ার সময় এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে, চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গেও তর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন গুজরাট টাইটানসের অধিনায়ক।

পরে গুজরাটের ফিল্ডিংয়ের সময় আরও একবার আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিলেন গিল। আম্পায়ারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও গতকালের ম্যাচে ৩৮ রানের সহজ জয় পেয়েছে গুজরাট। আগে ব্যাটিং করে গিল (৭৬) আর জস বাটলারের (৬৪) ফিফটিতে ২২৪ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছিল গুজরাট। রান তাড়ায় হায়দরাবাদ আটকে যায় মোটে ২২৪ রানে।

গতকাল গিল প্রথম মেজাজ হারান গুজরাটের ব্যাটিংয়ে নিজের রান আউটের সময়। জিশান আনসারির করা ১৩তম ওভারের শেষ বলে ফাইন লেগে ঠেলে দিয়ে এক রানের জন্য দৌড় দেন জস বাটলার। নন-স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে গিল ব্যাটিং ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই হার্শাল প্যাটেলের ছোড়া বলে স্টাম্প ভাঙেন আনরিখ ক্লাসেন।

কিন্তু স্ট্যাম্পে বল লাগার আগে ক্লাসেনের গ্লোভস স্টাম্পে লেগেছিল কিনা, এটা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, হার্শালের ছোঁড়া থ্রো ক্লাসেনের হাত ছুঁয়ে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করেছে। তখন পর্যন্ত ব্যাটিং ক্রিজে প্রবেশ করতে পারেননি গিল। কিন্তু সমস্যা হলো, বল লাগার আগ মুহূর্ত ক্লাসেনের গ্লোভস স্টাম্পে স্পর্শ করে। তবে বেল পড়েনি। পরে বল লাগার পর বেল পড়ে যায়। অনেক সময় ধরে যাচাই-বাছাই করার পর গিলকে আউট দেন তৃতীয় আম্পায়ার।

কিন্তু আম্পায়ারের এমন সিদ্ধান্ত যেন মানতেই পারছিলেন না গুজরাট ওপেনার। মাঠ ছাড়ার সময় সীমানার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা চতুর্থ আম্পায়ারের ওপর নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন।

এ তো গেল নিজের আউটের ঘটনা। গিল আরও একবার মেজাজ হারিয়েছিলেন। সেটা হায়দরাবাদ ইনিংসের ১৪তম ওভারের ঘটনা। প্রসিধ কৃষ্ণার করার ওভারের চতুর্থ ডেলিভারি পায়ে লাগে অভিষেক শর্মার। এলবিডাব্লিউয়ের আবেদন করে গুজরাট। আম্পায়ার তাতে সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেন গুজরাট অধিনায়ক গিল।

রিভিউতে দেখা যায়, বল স্ট্যাম্প বরাবর গেলেও ইমপ্যাক্ট আম্পায়ারস কলে পড়েছে। এছাড়া রিভিউতে বল কোথায় পিচ করেছে, সেটা শুরুতে দেখানো হয়নি বলে মানতে পারছিলেন না গিল। আম্পায়ারদের উদ্দেশ্যে উগ্রমেজাজে কথা বলতে থাকেন। পরে অভিষেক শর্মা এসে গিলকে শান্ত করেন।

ম্যাচ শেষে এমন মেজাজা-দেখানো প্রসঙ্গে গিল বলেছেন, ‘আমার আর আম্পায়ারদের মধ্যে কিছুটা বাক-বিতণ্ডা হয়েছিল। কখনও কখনও আবেগ জড়িয়ে যায়। আর যখন আপনি ১১০ শতাংশ দেবেন, আবেগ প্রকাশ পাওয়াটাই স্বাভাবিক।’

আম্পায়ারিং নিয়ে ক্ষোভ দেখানোর এ ম্যাচেই হাস্যকর একটি ভুল করেছিল ব্রডকাস্ট। সেটা অবশ্য গুজরাটের ইনিংসেই। ১৫তম ওভারে জয়দেভ উনাদকাটের একটি ডেলিভারি ওয়াইড দিয়েছিলেন আম্পায়ার। এতে রিভিউ নেয় হায়দরাবাদ। কিন্তু রিপ্লে দেখাতে গিয়ে ভজকট পাকিয়ে ফেলে ব্রডকাস্ট। ভুলে অন্য আরেকটি ডেলিভারি রিপ্লে দেখাতে থাকে তারা!