পিএসএলে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট

৩ ম্যাচ পর একাদশে ফিরে সাকিব-মাহমুদউল্লাহকে ছাড়িয়ে গেলেন রিশাদ

৩, ৩, ২, ০- পিএসএলে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে নিজের প্রথম চার ম্যাচে রিশাদ হোসেনের উইকেটসংখ্যা। ৪ ম্যাচে দারুণ বোলিংয়ে ৮উইকেট নিলেও পরের টানা ৩ ম্যাচে লাহোরের একাদশে সুযোগ পাননি বাংলাদেশি লেগস্পিনার। অবশেষে গতকাল রোববার করাচি কিংসের বিপক্ষে একাদশে ফেরেন পান রিশাদ। একাদশে ফিরেই নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।

৩ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। তাতে একটা রেকর্ডই যুক্ত হয়েছে ২২ বছর বয়সী এ স্পিনিং-অলরাউন্ডারের নামের পাশে। যে রেকর্ডে রিশাদ ছাড়িয়ে গেছেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। তবে রিশাদ বল হাতে দুর্দান্ত করলেও জিততে পারেনি তাঁর দল লাহোর।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ফখর জামান (৫১) ও মোহাম্মদ নাইমের ফিফটিতে (৬৫) ভর করে লাহোর ১৫ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬০ রান তুলতেই বৃষ্টি নামে। রিশাদ তখন ১ বলে শূন্য রানে অপরাজিত। বৃষ্টির বাগড়ায় লাহোর আর ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়নি। পরে বৃষ্টি থামলে ম্যাচ নেমে আসে ১৫ ওভারে। তাতে করাচির লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৮ রান। 

রান তাড়ায় নেমে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও টিম সেইফার্টের কল্যাণে মাত্র ৩ ওভারেই ৪০ রান তোলে করাচি। পরের ওভারের প্রথম বলে হারিস রউফের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন ওয়ার্নার (১৩ বলে ২৪)। পঞ্চম ওভারে আসিফ আফ্রিদি এসে ফেরান সেইফার্টকে (১০ বলে ২৪)। তাতে পাওয়ার প্লে-শেষে করাচির স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৬৮ রান।

ইনিংসের সপ্তম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে আসেন রিশাদ। বাংলাদেশি স্পিনারের প্রথম বলে ২ রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে চার মারেন জেমস ভিনস। তবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করেননি রিশাদ। ওভারের চতুর্থ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে ভিনসকে সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচে পরিণত করেন ২২ বছর বয়সী এ লেগ স্পিনার। ওই ওভারে ৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন রিশাদ।

এটি পিএসএলে রিশাদের ৯ম উইকেট। পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি এ লিগে বাংলাদেশিদের পক্ষে এখন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি রিশাদই। বাঁহাতি এ স্পিনার গতকাল ছাড়িয়ে গেছেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহকে। দুজনেই পিএসএলে ৮টি করে উইকেট নিয়েছেন। সাকিব ১২ ইনিংসে ও মাহমুদউল্লাহ ৭ ইনিংসে বোলিং করে ৮টি উইকেট নিয়েছিলেন পিএসএলে। রিশাদ দুজনকে ছাড়িয়ে গেলেন মাত্র ৫ ইনিংসেই।

গতকাল ইনিংসের নবম ওভারে দ্বিতীয় দফায় বোলিংয়ে এসে প্রথম দুই বলে চার-ছক্কা হজম করলেও রিশাদ ওভার শেষ করেন ১৩ রান দিয়ে। আর ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে রিশাদ হজম করেন আরও ৮ রান। তাতে নিজের বোলিং কোটা শেষ করেন ৩ ওভারে ১ উইকেটে ২৮ রান দিয়ে।

খালি চোখে রিশাদকে খরুচে মনে হলেও লাহোরের অন্যান্য বোলারদের মধ্যে তুলনামূলক রিশাদই ‘কিপটে’ ছিলেন!

রিশাদ যখন নিজের বোলিং কোটা শেষ করেন, লাহোরের শেষ ৪ ওভারে দরকার ছিল ৫৮ রান। সেখান থেকে ইরফান খানের ঝড়ে (২১ বলে ৪৮ রান) ইনিংসের ৩ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের দেখা পায় করাচি।