০, ০, ০, ০- নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের ৪ জনই ফিরেছেন ডাক মেরে। সিলেটে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে শুরুতেই শরীফুল ইসলাম-খালেদ আহমেদের তোপের মুখে পড়েন কিউইরা। জাতীয় দলের দুই পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৩ রানেই ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।
তবে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েই এক প্রান্ত আগলে রাখার দায়িত্ব নেন ওপেনার রায়ের মারিউ। শুরুতে প্রতিরোধ ও পরে প্রতিআক্রমণ চালিয়ে ডানহাতি এ ওপেনার একাই ৪২ রানের ইনিংস খেলেন। আর শেষদিকে সিলেটে ঝড় তোলেন ডেন ফক্সক্রফট।
২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের ৬৪ বলে ৭২ রানের ঝড়ে গুটিয়ে যাওয়ার আগে ১৪৭ রানের সংগ্রহ পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে খালেদ ও তানভীর ইসলাম ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন। এছাড়া শরিফুল ও এবাদত উইকেট নিয়েছেন দুটি করে।
নামে ‘এ’ দলের ম্যাচ হলেও বাংলাদেশের দলকে দেখে জাতীয় দল ভেবে ভুল করলে দোষের কিছু ছিল না। এমন অভিজ্ঞদের বিপক্ষে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ড শুরুতে বড় বিপদেই পড়ে।
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ওপেনার ডেন ফিলিপসকে এলবিডাব্লিউ করে কিউইদের প্রথম ধাক্কাটা দেন শরীফুল। পরের ওভারে ম্যাট বয়লেকে একইভাবে আউট করেন খালেদ। একই ওভারের শেষ বলে আব্বাসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন ডানহাতি এ পেসার। সপ্তম ওভারে নিক কেলির স্ট্যাম্প ভাঙেন শরীফুল। নিউজিল্যান্ডের এ চার ব্যাটসম্যানের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
ভাগ্যিস শুরুতে মারিউ আর পরে ফক্সক্রফট ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের বাইরে আর কেউ দুই অঙ্কও ছুঁতে পারেননি।
১৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর জশ ক্লার্কসনকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ রানের জুটি গড়েন মারিউ। এ জুটিতে ক্লার্কসনের অবদান ৭ রান। ইনিংসের ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এবাদতকে মারতে গিয়ে ঠিকঠাক টাইমিং করতে পারেননি ক্লার্কসন। ব্যাটের কানায় বল সোহানের হাতে ক্যাচে পরিণত হন তিনি।
দলের রান ৫০ পেরোনোর পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মারিউ। ইনিংসের ১৯তম ওভারে তানভীর ইসলামের স্পিনে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হন মারিউ।
নিজের পরের ওভারে পর পর দুই বলে মিচেল হাই (৪) ও ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান তানভীর। কিউইদের স্কোরবোর্ডে তখন ৮ উইকেটে ৬২ রান।
সেখান থেকে কিউইরা যে প্রায় দেড়শ ছুঁই ছুঁই স্কোর তুলেছে, এর একক কৃতিত্ব ফক্সক্রফ্টের। শুরুতে লেনক্সকে (৯) নিয়ে ২৩ রানের জুটি গড়েন ফক্সক্রফট। ৮৫ রানে লেনক্স আউট হলে শেষ উইকেটে ফক্সক্রফটকে সঙ্গ দেন বেন লিস্টার। দুজনের শেষ উইকেটের জুটিতে ৬২ রান পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। এ জুটিতে লিস্টারের অবদান মোটে ৪ রান!
একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে একাই ঝড় তোলেন ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞ ফক্সক্রফট। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৩৫তম ওভারে এবাদতের শর্ট বাউন্সারে উইকেটের পেছনে গাইড করতে করে কিপারে কাছে ক্যাচ দিয়েছেন ফক্সক্রফট। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ৬৪ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭২ রান। আর নিউজিল্যান্ডও পেয়ে গেছে লড়াইয়ের সংগ্রহ।