প্রতিপক্ষ এক, ভেন্যু এক, লক্ষ্যটাও একই- এ যেন সিরিজের প্রথম ম্যাচের প্রতিচ্ছবি। দুদিন আগে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের ২০১ রান তাড়া করতে নেমে ৩৭ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচের মতো গতকাল শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও হারের স্বাদ পেয়েছেন লিটন দাসরা। পার্থক্য শুধু হারের ব্যবধানে। গতকাল রান তাড়ায় নেমে ১৪৪ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তাতে ৫৭ রানে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হাতছাড়া (২-০) করল বাংলাদেশ।
আগামীকাল রোববার একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুদল। ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর।
গতকাল রান তাড়ায় নেমে অবশ্য শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। তানজিদ হাসান তামিমের তাণ্ডবে সালমান আলী আগা ও হাসান আলীর প্রথম দুই ওভারেই ৩২ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে সুসময়টা বেশিক্ষণ থাকেনি। ৪৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে হারিস রউফকে তুলে মারতে গিয়ে মিডঅনে হাসান আলীর হাতে ক্যাচে পরিণত হন পারভেজ হোসেন ইমন (৮)।
বিপর্যয়ের শুরুটাও সেখান থেকেই। পরের ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে আউট হন তানজিদ তামিম। তবে ফেরার আগে মাত্র ১৯ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৩ রান করেছেন বাঁহাতি এ ওপেনার। পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে লিটন দাসকে (৬) হারায় বাংলাদেশ।
সে ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবরার আহমেদের পরের ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে তাওহীদ হৃদয় (৫) ও জাকের আলী (০) ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন। বিনা উইকেটে ৪৪ রান থেকে মুহূর্তেই ৫৬ রানে ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে এক প্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজ প্রতিরোধ গড়লেও অন্য প্রান্তে থিতুই হতে পারেননি শামিম হোসেন পাটোয়ারি (৭) ও রিশাদ হোসেন (১)। স্কোরবোর্ডে তখন ৭৭ রানে ৭ উইকেট। অর্থাৎ ৩৬ বল আর ৩৩ রানের ব্যবধানেই প্রথম ৭ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে মিরাজ-তানজিম হাসান সাকিবের অষ্টম উইকেট জুটিতে ২৫ বলে ৩৩ রান পায় বাংলাদেশ। তাতে দলের রানও তিন অঙ্ক ছোঁয়। তবে দলকে ১১০ রানে রেখে বিদায় নেন মিরাজ (১৭ বলে ২৩ রান)।
সেখান থেকে বাংলাদেশ যে ১৪০ পেরিয়েছে, এর পুরো অবদান তানজিম হাসান সাকিবের। শেষ দিকে ডান হাতি এ ‘ব্যাটসম্যানের’ ৩১ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কায় ৫০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। কিন্তু সাকিবের এ বিধ্বংসী ইনিংসটা শুধু হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।