এবার বিয়ের আসর থেকে ‘কনে’ নিয়েই ফিরল বেঙ্গালুরু

ইংরেজিতে একটা বাগধারা আছে, ‘always a bridesmaid, never the bride’, অর্থাৎ যে সবসময় বরযাত্রী হয়, কিন্তু কখনো তার নিজের বিয়ে হয় না। ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলে সেই ‘বরযাত্রী’টা এতদিন ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু!

আইপিএলে আগের ১৭ মৌসুমে ৯বার প্লে-অফ খেলেছে দলটি। এর মধ্যে ফাইনালে উঠেছে তিনবার। কিন্তু প্রত্যেকবারই রানার্স আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

এবার আর স্বপ্ন ভঙ্গ হয়নি বেঙ্গালুরুর। গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন বিরাট কোহলিরা। ওই বাগধারার সঙ্গে মিলিয়ে তাই বলাই যায়, ১৮ বারের চেষ্টায় এবার বিয়ের আসর থেকে কনে নিয়েই ফিরল বেঙ্গালুরু!

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯০ রান তোলেন কোহলি-রজত পাতিদাররা। বেঙ্গালুরুর হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেছেন কোহলি। রান তাড়ায় ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ১৮৪ রানে থামে পাঞ্জাবের ইনিংস।

স্কোরকার্ড দেখে যতটা জমজমাট মনে হয়েছে, ম্যাচের শেষ দিকটা তেমন জমে ওঠেনি। ১২ ওভার শেষে পাঞ্জাবের স্কোরবোর্ডে ছিল ৯৮ রান। শেষ ৪৮ বলে দলটির দরকার ছিল ৯২ রান। কিন্তু ক্রুনাল পান্ডিয়া-ভুবনেশ্বর কুমরাদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে কাজটা কঠিন হয়ে যায় পাঞ্জাবের।

এরপরও শশাঙ্ক সিংয়ের ঝড়ে শেষ পর্যন্ত নিভু নিভু আশা বেঁচে ছিল প্রীতি জিনতার মালিকানাধীন পাঞ্জাবের। ইনিংসের শেষ ওভারে ২৯ রান দরকার ছিল দলটির। কিন্তু ওই ওভারের প্রথম ২ বলেই কোনো রান নিতে দেননি হ্যাজলউড। অস্ট্রেলিয়ান পেসারের শেষ ৪ বলে ৩ ছক্কা আর ১ চার মারেন শশাঙ্ক, কিন্তু সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন শশাঙ্ক।

পাঞ্জাবকে আটকানোর পেছনে বল হাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান হজম করে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইয়াশ দয়াল ৩ ওভারে ১৮ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ভুবনেশ্বর ২টি এবং হ্যাজলউড ও রোমারিও শেফার্ড ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।