জয়ের জন্য ইনিংসের শেষ ওভারে পাঞ্জাব কিংসের দরকার ছিল ২৯ রান। ওই ওভারের প্রথম দুই বলে ডট দেন জশ হ্যাজলউড। তাতে শেষ ৪ বলে পাঞ্জাবের সমীকরণ মেলাতে দরকার ওই ২৯ রান-ই। খুব অবিশ্বাস্য কিছু না ঘটলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রথম আইপিএল শিরোপা জয় তখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
টিভি ক্যামেরা বারবার খুঁজে নিচ্ছিল বিরাট কোহলির মুখ। ভারতীয় কিংবদন্তি এ ব্যাটসম্যানের চোখ তখন ছলছল করছে। চেষ্টা করেও অশ্রু লুকাতে পারছিলেন না কোহলি। তবে এ কান্না বিষাদের নয়, বরং দীর্ঘ আক্ষেপ পূরণের! নির্দিষ্ট করে বললে, অপেক্ষাটা দীর্ঘ ১৮ বছরের।
ওভারের শেষ ৪ বলে শশাঙ্ক সিং ৩ ছক্কা আর ১ চার মেরেছেন বটে। কিন্তু তাতে জয় থেকে ৬ রান দূরে থেমেছে পাঞ্জাবের ইনিংস। তাতে প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু। শুধু বেঙ্গালুরু নয়, আইকনিক ১৮ নম্বর জার্সিধারী কোহলিও প্রথমবারের মতো জিতলেন এ শিরোপা।
১৮ বছরের অপেক্ষা শেষে স্বপ্ন পূরণ হতেই আবেগে ভেসে গেলেন ভারতীয় তারকা। মাঠের মধ্যেই কেঁদে ফেললেন। মাঠে মাথা ঠেকিয়ে যেন সব আবেগ উজাড় করে দিলেন। উচ্ছ্বাসেরও কমতি ছিল না। একটু পরেই সতীর্থ ফিল সল্টের কোলে লাফিয়ে উঠলেন। এরপর সতীর্থদের সঙ্গে মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা উদযাপনে। সে উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গালুরুতে খেলা সাবেক দুই তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ক্রিস গেইল।
সারাজীবন মনে রাখার মতো মুহূর্ত, আর সেটাতে জীবনসঙ্গী আনুশকা শর্মা থাকবে না, সেটা কি হয়? যথারীতি আনুশকাকেও রাখলেন সে উদযাপনে। কোহলির সে সময়ের অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছিল, সব পাওয়া হয়ে গিয়েছে তাঁর!
জাতীয় দলের হয়ে অর্জনের পূর্ণই বলা চলে। ব্যাট হাতে রানের বন্যা বইয়ে ভারতের হয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছাড়াও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছেন। আইপিএলেও নিয়মিত রানের দেখা মিলেছে কোহলির ব্যাটে। টুর্নামেন্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রানের মালিকও কোহলি। ৩৬ বছর বয়সেও সমান তালে রান করেছেন। ৬৫৭ রান নিয়ে এবারের আইপিএলের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন কোহলি।
কিন্তু দিন শেষে একটা আইপিএল শিরোপার অভাব ছিল কোহলির জীবনে। এর আগে তিনবার খুব কাছে গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বেঙ্গালুরুর। ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৬ সালে রানার্স আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অবশেষে ১৮তম মৌসুমে এসে ধরা দিল সেই কাঙিক্ষত মুহূর্ত।
তবে বারবার যেভাবে হতাশ হয়েছেন, একটা পর্যায়ে কোহলি ভেবেছিলেন, হয়তো কখনো আইপিএল শিরোপার স্বাদটা নেওয়া হবে না। স্বপ্ন পূরণের পর এমনটা নিজেই জানিয়েছেন বেঙ্গালুরু তারকা।
কোহলির ভাষায়, ‘এই জয় যতটা দলের জন্য, একইভাবে সমর্থকদের জন্যও। ১৮টা বছর হয়ে গেছে। আমি দলটাকে আমার তারুণ্য, নিজের সেরা সময়টা এবং অভিজ্ঞতার সবটা দিয়েছি। প্রতিটি মৌসুমে জেতার চেষ্টা করেছি। নিজের শক্তির প্রতিটি বিন্দু দিয়েছি। অবশেষে সেই দিনটা এসেছে। এটা অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। কখনো ভাবিনি, এই দিনটা আসবে। শেষ বলটার পর আবেগে ভেসে গিয়েছিছিলাম। এটা সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি।’