মুশফিকের পাশাপাশি ফিফটি শান্তরও

আগস্টের পর শুধু সমালোচনাই জুটেছে কপালে, আজ বোঝালেন তিনি বোঝা নন

সেই যে গত বছরের আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে ১৯১ রানের ইনিংসটা খেলেছিলেন, তারপর থেকে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট কথা বলেনি। কথা বলেনি বলতে আওয়াজই করতে পারেনি। আজকের আগে ১৩ ইনিংসে সেঞ্চুরি তো পরের কথা, কোনো ফিফটিই পাননি, সর্বোচ্চ ইনিংস গত এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪০ রানের।

শুধু রান না পাওয়াই নয়, যাঁকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘টেকনিক্যালি সাউন্ড’ ব্যাটসম্যান বলা হয়, সেই মুশফিকের একের পর এক ইনিংসে আউট হওয়ার ধরন মিলিয়ে তাঁর সমালোচনার শেষ ছিল না। এবং সমালোচনাকে অযৌক্তিক মনে করানোর মতো কিছু মাঝের এগারো মাসে মুশফিক করতে পারেননি। শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ১০০ টেস্ট খেলা ক্রিকেটার হওয়ার জন্যই মুশফিককে আর টেস্টে বয়ে নিয়ে যাওয়ার দরকার আছে কি না, সে নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল।

অবশেষে এত সমালোচনা আর প্রশ্নের পর কিছুটা জবাব মিলেছে মুশফিকের ব্যাটে। গলে আজ টেস্টের প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশ যে ৩ উইকেটে ১৮২ রানের স্বাস্থ্যবান চেহারার স্কোরকার্ড দেখে চা বিরতিতে যেতে পেরেছে, সে পথে বড় অবদান ১১১ বলে ৪ চারে ৬৬ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়া মুশফিকের ইনিংসের।

মুশফিক মাঝে রান পাননি বলে তাঁর ইনিংসটা বেশি আলোচিত হচ্ছে, তবে নাজমুল হোসেন শান্তর ইনিংসের গুরুত্বও কোনো অংশে কম নয়! টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব নিজে ছেড়েছেন, এই শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগেই ওয়ানডের নেতৃত্ব বিতর্কিতভাবে তাঁর কাছ থেকে কেড়ে দেওয়া হয়েছে মেহেদি হাসান মিরাজকে। শুধুই টেস্ট অধিনায়ক শান্তরও তো কিছু করে দেখানোর দায় ছিল! সেটা তিনি করেছেন দারুণভাবেই, হয়তো মুশফিকের চেয়েও দারুণভাবে। ফিফটি তিনিও পেয়েছেন, মুশফিক আর তিনি ফিফটিতে পৌঁছেছেন পরপর দুই বলে। চা বিরতির সময়ে শান্তর রান ছিল ৭০ (১৪৩ বলে ৭ চার ১ ছক্কায়)।

দুজনের সৌজন্যে চতুর্থ উইকেটে এরই মধ্যে ১৩৭ রানের জুটি দেখে ফেলেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশ এর আগে শতরানের জুটি দেখেছে সেই ২০২৩ সালের এপ্রিলে, মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫৯ রানের সে জুটিতে মুশফিকের সঙ্গী ছিলেন সাকিব আল হাসান।    

জুটিতে রান আর জুটিটার ধরনের কারণেই মুশফিক আর শান্তর ব্যাটিং আলাদা মাহাত্ম্যের দাবি নিয়ে হাজির হয়। প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে ৪৫ রানে। গলের উইকেট প্রথম দুই দিনে ব্যাটিং সহায়ক হওয়ার কথা, সেখানে প্রথম ঘণ্টায় এভাবে অল্প রানেই এনামুল হক বিজয়ের পর ৮ বলের ব্যবধানে মুমিনুল হক আর সাদমান ইসলামের বিদায় দেখতে হওয়ায় টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের গত বছর দুয়েকের ব্যর্থতার স্মৃতিই মনে এসেছে বারেবার।

সেখান থেকে শুরু মুশফিক-শান্তর প্রতিরোধ। প্রথম সেশনে শ্রীলঙ্কাকে আর কোনো উইকেট পেতে না দিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছিলেন ৪৫ রান। তাতে প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের না শ্রীলঙ্কার – এই প্রশ্নটার উত্তর নিয়ে দ্বিধা তৈরি করতে পেরেছেন দুজন। আর দ্বিতীয় সেশনে প্রশ্নটা উঠতেই দেননি। পুরো সেশনে শ্রীলঙ্কা ৩০ ওভার বোলিং করে গেছে, সেশনে ৯২ রান বলে – বাংলাদেশ একেবারে ধীরগতিতেও ব্যাটিং করেনি। সব মিলিয়ে সেশনটাকে শুধুই বাংলাদেশের করে দিয়েছেন মুশফিক আর শান্ত।