টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে সর্বশেষ হারানো দলটিতে কারা ছিলেন?

দেড় মাস আগেই পাকিস্তান সফর করে এসেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের কোনো ম্যাচেই তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি। এবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে এর পাল্টা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন লিটন দাসরা।

দুই দলই নতুন করে গুছিয়ে নিচ্ছে টি-টোয়েন্টিতে। এক বছর আগেও যা অকল্পনীয় ছিল, সেটাই হচ্ছে। বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানরা এখন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে অপাঙ্‌ক্তেয়। শাহিন শাহ আফ্রিদিও এখন অনেক পিছিয়ে আছেন দলের চিন্তায়।

বাংলাদেশ দলও নতুন করে গড়ে উঠছে। ‘পঞ্চ পান্ডব’ গত বছরই অতীত হয়ে গেছেন। ধীরে ধীরে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় অধিনায়ক বদলেছে, শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবারের মতো সিরিজে হারানোর অর্জনও এসেছে।   

তবে দুই দলের অতীত ইতিহাস দেখলে এই সিরিজে পাকিস্তানকেই এগিয়ে রাখতে হবে। এ নিয়ে দুই দল ২২বার মুখোমুখি হয়েছে। তিনবার জিতেছে বাংলাদেশ, বাকি ১৯  বারই জিতেছে পাকিস্তান।

২০০৭ সালে বিশ্বকাপের আগে চারজাতি টুর্নামেন্টে প্রথম দেখা হয়েছিল দুই দলের। নাজিমউদ্দিনের ৫০ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসের পরও ৩০ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপেও ভাগ্য বদলায়নি। পরের ৭ বছরে ৫ বারের দেখাতেও একই ফল।

২০১৫ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে একমাত্র ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। ঠিক এর আগেই হওয়া ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে তখন উড়ছে বাংলাদেশ। এরপর টি-টোয়েন্টিতে মোস্তাফিজুর রহমানের অভিষেকের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। 

এক বছর পর এশিয়া কাপে আবার দেখা দুই দলের। সে ম্যাচে বাংলাদেশি পেসারদের দাপটে মাত্র ১২৯ রানে থেমে যায় পাকিস্তান। মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফির দৃঢ়তায় সে লক্ষ্য ৫ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপেই আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।

সেই যে হারের শুরু, এরপর আরও ৮ ম্যাচে টানা হেরেছে। হেরেছে সর্বশেষ ৩ ম্যাচে। মাঝে শুধু এক ম্যাচেই জয়। 

সে ম্যাচ অবশ্য ঠিক সিনিয়র ক্রিকেটে নয়, রেকর্ডের খাতিরেই সেটিকে হিসাবে ধরতে হয়। ম্যাচটা যে হয়েছিল ২০২৩ এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে, যেখানে সব দলই মূলত তাদের পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটারদের পাঠায়। ওই সময় আবার এশিয়া কাপ ক্রিকেটও চলছিল। তাই সব দলই তাদের সেরাদের এশিয়া কাপের দলে রেখে পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটারদের পাঠিয়েছিল হাংঝুতে এশিয়ান কাপে।

৩০ গজের একটু বেশি সীমানার মাঠের সে টুর্নামেন্টে অবশ্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল বৃষ্টি। সোনা- রুপার হিসাব মিলিয়ে দিয়েছিল বৃষ্টি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বৃষ্টি ঝামেলা পাকিয়েছিল। দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে পাকিস্তান ৫ ওভারে ৪৮ রান তোলার পরই বৃষ্টি নামে।

৫ ওভারে ৬৫ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। ওপেনার জাকির হাসান দ্বিতীয় বলেই ০ রানে আউট হয়ে যান। অধিনায়ক সাইফ হাসান আউট পরের বলে। আফিফ হোসেন ও ইয়াসির আলী ধাক্কা সামলে ২১ বলে ৪৩ রান তোলেন। ১১ বলে ২০ রান করা আফিফ ফিরে যান চতুর্থ ওভারের শেষ বলে।

শেষ ওভারে ২০ রান দরকার ছিল। স্ট্রাইকে ইয়াসির, অন্যপ্রান্তে জাকের আলী অনিক। জাকের আলী অবশ্য স্ট্রাইক পাননি। সুফিয়ান মুকিমের প্রথম বলেই ছক্কা ইয়াসিরের। পরের বলে ডাবল। পরের বলে আবার ছক্কা। শেষ ৩ বলে দরকার ৬ রান।

ইয়াসির আবার ডাবল নিলেন। ২ বলে দরকার ৪। কিন্তু পঞ্চম বলে বোল্ড ১৬ বলে ৩৪ করা ইয়াসির। বোল্ড হওয়াতে জাকেরের পক্ষে স্ট্রাইকে যাওয়াও সম্ভব হয়নি। তবে শেষ বলে প্রয়োজনীয় ৪ রান ঠিকই এনে দিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান। বল হাতেও এই স্পিনার ২ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়াতেই বাংলাদেশের লক্ষ্যটা ৬৫-তে নেমে এসেছিল।

বাংলাদেশকে এশিয়ান গেমসে আরেকটি পদক এনে দেওয়া সে দলে আরও ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়, শাহাদাত হোসেন, রিশাদ হোসেন, রিপন মন্ডল ও হাসান মুরাদ। এদের মধ্যে জাকের আলী অনিক ও রিশাদ হোসেন এখন টি-টোয়েন্টি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।