প্রথম টি-টোয়েন্টি

পাকিস্তান বেশি খেতে চেয়েছিল, অল্পেই থেমে যেতে হলো তাদের

ইনিংসের চতুর্থ বলেই ক্যাচ দিয়েছিলেন ফখর জামান। শেখ মেহেদীর বলে সুইপ করতে গিয়ে  ফাইন লেগে তুলে দিয়েছিলেন পাকিস্তানি ওপেনার। কিন্তু শর্ট ফাইন লেগে থাকা তাসকিন আহমেদ সহজ ক্যাচটি নিতে পারলেন না। ৪ রানে জীবন পাওয়া ফখর সুযোগটা কাজে লাগালেন ভালোভাবেই।

অন্য প্রান্তে একের পর এক সতীর্থদের যাওয়া-আসার মাঝেও আরেক প্রান্তে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে টানছিলেন ফখর। শেষমেষ ইনিংসের ১২তম ওভারে রান আউট হয়ে ফখর যখন ফিরলেন, তখন তাঁর নামের পাশে ৩৪ বলে ৪৪ রান। আর পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে ৬ উইকেটে ৭০ রান!

ফখর যাওয়ার পর বলার মতো তেমন কেউ হাল ধরতে পারেনি পাকিস্তানের। শেষ দিকে আব্বাস আফ্রিদির ‘ওয়ানডে’ সুলভ ২৪ বলে ২২ ও খুশদিল শাহর ‘টেস্ট’ সুলভ ২৩ বলে ১৭ রানের ইনিংসটাকে উল্লেখ করা যেতে পারে। বাংলাদেশি বোলারদের সামনে ধুঁকে ধুঁকে শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতে ১১০ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের এটাই সর্বনিম্ন সংগ্রহ।

এর আগে ২০২১ সালে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২ উইকেটে ১০৯ রান তুলেছিল পাকিস্তান, যা এক হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন সংগ্রহ। তবে ওই ম্যাচে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ ১০৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল বলে এর চেয়ে বেশি রান করা সম্ভব ছিল না পাকিস্তানের পক্ষে। আর আগে ব্যাটিং করে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ১২৯ রান। ২০১৬ সালে মিরপুরের ওই ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ।

টানা ৯ ম্যাচ টস হারার পর অবশেষে আজ টস জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। টস জিতে লিটন দাস কেন ফিল্ডিং নিয়েছিলেন, ইনিংসজুড়ে সেটারই প্রমাণ দিয়েছেন মোস্তাফিজ-তাসকিন-তানজিম সাকিবরা।

শুরুতে উইকেট হারালেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে পাকিস্তান। মিরপুরের পিচ রিপোর্ট অনুসারে, উইকেট কিছুটা স্লো হওয়ার কথা ছিল। পিচ বিশ্লেষণে আমির সোহেলও বলছিলেন, এই পিচে শুরুতে দেখেশুনে খেলে পরে সেট হয়ে আক্রমণে যাওয়াই ঠিক হবে। কিন্তু পাকিয়াতান শুরুই করল আগ্রাসী ভঙ্গিতে। কিন্তু বেশি খেতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অল্পেই থামতে হলো তাদের। বাংলাদেশ যদি ক্যাচগুলো না ছাড়ত, পাকিস্তানের হাল আরও খারাপ হতে পারত।

ইনিংসের প্রথম ওভারে শেখ মেহেদীর বলে তাসকিনের ভুলে জীবন পেলেন ফখর জামান। গ্যালারিতে তখন একরাশ হতাশা। তবে দর্শকদের উযদাপনের উপলক্ষ্য এনে দিতে দেরি করেনি তাসকিন। পরের ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে আরেক ওপেনার সায়েম আইয়ুবকে ফিরিয়েছেন ডানহাতি পেসার। তাসকিনের ওভারের পঞ্চম বলে ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দেন আইয়ুব (৬)। ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। গ্যালারি তখন উত্তাল।

শেখ মেহেদির পরের ওভারের প্রথম পাঁচ বলেই তিনটি চার মারেন ফখর আর হারিস। বাংলাদেশি সমর্থকে ঠাসা গ্যালারিতে উন্মাদনা কমে এলে সেটাকে টেনে আবার বাড়িয়ে তোলেন মেহেদী। ওভারের শেষ বলে তুলে নেন হারিসকে। মেহেদীর শর্ট লেংথের ডেলিভারি বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে শামীম পাটোয়ারির হাতে ক্যাচ দেন ৩ বলে ৪ রান করা হারিস।

পরপর দুই ওভারে দুই হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। উইকেটে বল নিচু হয়ে আসায় খোলস বন্দী হয়ে পড়েন তারা। আর এ সুযোগে মিডল স্ট্যাম্প আর অফ স্ট্যাম্পের ওপর টানা বল করতে থাকেন মোস্তাফিজ-সাকিবরা।

সেটারই ফল পঞ্চম ওভারে পেয়েছে বাংলাদেশ। তাসকিনের আগের ওভারটা দেখে শুনে পার করলেও তানজিম সাকিবের পরের ওভারের শেষ বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন সালমান আলী আঘা (২)। পাকিস্তানি অধিনায়ক যেভাবে আউট হয়েছেন, সেটাই বলে দেয়, উইকেট গেলেও আক্রমণাত্মক খেলার কৌশলই বেছে নিয়েছিল পাকিস্তান! তানজিম সাকিব ওই ওভারে মাত্র ২ রান দিয়েছেন।

পরের ওভারে মোস্তাফিজ এসে ১ রান দিয়ে হাসান নেওয়াজের উইকেট শিকার করলেন। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ৪ উইকেট ৪১। স্কোরবোর্ডে আর ৪ রান যোগ হতেই আবারও উইকেট হারায় পাকিস্তান। এবার মেহেদীর বলে অন সাইডে ঠেলে দিয়ে দৌড়ে ১ রান নিতে চেয়েছিলেন ফখর। অন্য প্রান্তে থাকা মোহাম্মদ নেওয়াজ রান পূর্ণ করার আগেই মেহেদীর থ্রো ধরে লিটন দাস স্টাম্প ভাঙেন। ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

এক প্রান্তে উইকেট গেলেও অন্যপ্রান্ত আগলে প্রতিআক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ফখর। শেষমেষ দলকে ৭০ রানে রেখে রান আউট হয়ে বিদায় নেন পাকিস্তানি ওপেনারও।

হাতে চার উইকেট নিয়ে পাকিস্তান তিন অঙ্ক ছুঁতে পারে কি না, সেটাই ছিল দেখার। তবে শেষ দিকে খুশদিল শাহর ২৩ বলে ১৭ আর আব্বাস আফ্রিদির ২৪ বলে ২২ রানে ভর করে ১১০ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। ফখর জামানের বাইরে পাকিস্তানের শুধু এ দুজনই দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন।

বাংলাদেশের হয়ে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। মোস্তাফিজ ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া তানজিম সাকিব ও মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট নিয়েছেন।