লিটনদের জন্য কাজটা সহজ করে দিলেন তাসকিন 

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এশিয়া কাপের আগে বল হাতে নিজেদের সেরা প্রস্তুতিটাই নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা, এবার শুধু লিটন-তামিমদের পালা। সিলেটে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ডাচদের ইনিংস শেষে অন্তত তা বলাই যায়। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেটের দেখা পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসারের বোলিং তোপে ডাচরা স্কোরবোর্ডে ২০ ওভার শেষে মাত্র ১৩৬ রান তুলেছে।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেছেন ডাচ ওপেনার ম্যাক্স ও'ডাউদ। প্রথম ওভার দেখেশুনে খেললেও শরীফুল ইসলামের দ্বিতীয় ওভারে ৩টি বাউন্ডারি মেরে রানের গতি বাড়াতে থাকেন  ম্যাক্স ও'ডাউদ। তৃতীয় ওভারে শেখ মাহেদীর বলে লং অনের ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান ডানহাতি এই ওপেনার। 

প্রথম তিন ওভারে উইকেটের দেখা না পেয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বোলিং পরিবর্তন করেন। বল হাতে চতুর্থ ওভারে এসেই প্রথম বলে  ম্যাক্স ও'ডাউদের উইকেট তুলে নেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ১৫ বলে ২৩ রান করে কভারে থাকা জাকের আলী অনিকের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন  ম্যাক্স ও'ডাউদ। 

দলীয় ২৫ রানে ডাচরা প্রথম উইকেট হারানোর পাওয়ার প্লেতে চাপে পড়ে যায়। নিজের প্রথম ওভারে ১৩ রান দেওয়া শরিফুল পঞ্চম ওভারে এসে মেডেন দেখা পান। বাঁহাতি এই পেসারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারেও সুবিধা করতে পারেনি ডাচরা। 

৬ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৩৪ রান তোলেন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ক্রিজে থাকা তেজা নিদামানুরু ও ওপেনার বিক্রমজিত সিং। তবে ইনিংসের শুরু থেকেই ছন্দহীন বিক্রমজিত অষ্টম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে পারভেজ হোসেন ইমনের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ১১ বলে মাত্র ৪ রান করেন এই ওপেনার।

দলীয় ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো ডাচরা তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ও তেজা নিদামানুরুর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এ দুজনের জুটি বেশি বড় করতে দেননি ৪ বছর পর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা সাইফ হাসান। 

ইনিংসের দশম ওভারে অফ স্পিন করতে এসে ৬ বলের ভেতর স্কট এডওয়ার্ডস(১২ রান) ও তেজা নিদামানুরু(২৬) দুজনকেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। দলীয় ৬৬ রানে ২ উইকেট থেকে ৬৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নেদারল্যান্ডস।

পঞ্চম উইকেটে নোয়া ক্রোস ও শারিজ আহমেদ ডাচদের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। ইনিংসের ১৩তম ওভারে ব্যক্তিগত ১৫ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শারিজ। 

৮৬ রানে ৫ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ধারবাহিক বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। 

দলীয় এক শ রান পার করার পর  ১৬তম ওভারে ডাচদের ব্যাটিংয়ে ফের আঘাত হানেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসারের স্লো ডেলিভারিতে কাইল ক্লেইন ব্যক্তিগত ৯ রানে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

এক ওভার পর ফের উইকেটে নাম লেখান তাসকিন। এবার নোয়াহ ক্রোসও(১১ রান) তাসকিনের স্লো বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ম্যাচে চতুর্থ উইকেটের দেখা পান তাসকিন(৪/২৮)। এর আগে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে আরও দুবার ৪ উইকেট পেয়েছিলেন তাসকিন। 

২০২৩ সালে আইরিশদের বিপক্ষে মাত্র ২ ওভারে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন, যা এখনো এই ডান হাতি পেসারের ক্যারিয়ার সেরা ফিগার। এর আগে ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডাচদের বিপক্ষে প্রথমবার ৪ উইকেট পেয়েছিলেন তাসকিন।

দলীয় ১০৯ রানে ৭ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস শেষ পর্যন্ত টিম প্রিঙ্গল(১৬) ও আরিয়ান দত্তের(১৩*) ব্যাটে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৬ রানের সংগ্রহ পায়।