সবাই হিরো হতে গিয়ে পাকিস্তানকে ফাইনালে তুলে দিলেন জাকের-হৃদয়রা

এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৩৬ রান। টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় লক্ষ্যটা মোটেও আহামরি নয়। কিন্তু সে সমীকরণ মেলাতে গিয়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের অবস্থা হয়ে গেল লেজেগোবরে।

সিঙ্গেল-ডাবলসে রয়ে-সয়ে খেললে যে ম্যাচটা বের হতে পারত অনায়াসে, সেখানে জাকের আলী অনিক-তাওহিদ হৃদয়-শেখ মেহেদীদের পেয়ে বসল বড় শট খেলার নেশা। আর ছক্কা মারার নেশায় একের পর এক উইকেট বিলিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আটকে গেছে ৯ উইকেটে ১২৪ রানে। তাতে ১১ রানের জয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান।

আগামী রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবেন সালমান আলী আঘারা। এশিয়া কাপে গত ৪১ বছরে এই প্রথম শিরোপা নির্ধারণীতে লড়বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

গতকাল বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের আউট হওয়ার ধরন দেখে ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে অনেকটা বিস্ময় নিয়ে সুনীল গাভাস্কার মন্তব্য করেছিলেন, ‘সবাই হিরো হতে চাচ্ছে কেন?’। প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেন ওয়াসিম আকরামও। তিনিও জানতে চান, সবাই ছক্কা মারতে চায় কেন?

ধারাভাষ্যকারদের এমন বিস্ময়ের যথেষ্ট কারণও আছে। রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানকে ব্রেকথ্রু এনে দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তানি পেসারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন পারভেজ হোসেন ইমন (০)। তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে মোটে ১ রান।

সে ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ইনিংসের পঞ্চম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে আবারও উইকেট নেন শাহিন। আগের বলে রান আউট থেকে বেঁচে যাওয়া তাওহিদ হৃদয় (৫) অপ্রয়োজনীয় শট খেলে গিয়ে ক্যাচ দেন সায়েম আইয়ুবকে। ২৩ রানে ২ উইকেট নেই বাংলাদেশের।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এবার হারিস রউফের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আইয়ুবের হাতে ধরা পড়েন আগের ম্যাচের নায়ক সাইফ (১৮)। পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ৩৬ রান।

চাপে পড়া বাংলাদেশ আরও চাপে পড়ে অষ্টম ওভারের শেষ বলে। মোহাম্মদ নেওয়াজকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন মেহেদী (১১)। একের পর এক উইকেট গেলেও একই স্টাইলে ব্যাট চালাতে থাকেন নুরুল হাসান সোহান ও শামিম পাটোয়ারিরা। এরপরও ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে ৫৮ রান। এর মধ্যে ছক্কাই ৫টি!

বড় শট খেলতে গিয়েই ইনিংসের ১২তম ওভারে উইকেট দেন সোহান (১৬)। দুই ওভার পরে একই স্টাইলে ক্যাচ দেন জাকেরও (৫)। শেষ ৪ ওভারে ৪৬ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। হাতে তখনও ৪ উইকেট। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা যার দিকে সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে ছিলেন, সেই শামিম পাটোয়ারি ১৭তম ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে রিভার্স শট খেলতে গিয়ে পাকিস্তানি পেসারের স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে ঠিকঠাক ব্যাটে বলে করতে পারলেন না। ক্যাচ আউট হলেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো হোসাইন তালাতের হাতে বন্দী হয়ে।

এরপরও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত আশা টিকে ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু তানজিম সাকিব (১০), রিশাদ (১৬*), তাসকিন (৪), মোস্তাফিজদের (৬*) ছোট ছোট ইনিংসগুলো শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে টি-টোয়েন্টিতে এত কম রানের লক্ষ্য দিয়েও পাকিস্তান ম্যাচ জিতেছিল একবার। ২০১১ সালে মিরপুরে পাকিস্তানের ১৩৫ তাড়া করতে নেমে ৮৫ রানে আটকে গিয়েছিলেন মুশফিক সাকিবরা। এবারও একই লক্ষ্য পেয়ে বাংলাদেশ থেমে গেল ১২৪ রানে।