বাংলাদেশ ম্যাচে ‘আজাদ কাশ্মীর’ নিয়ে মন্তব্য, তোপের মুখে ব্যাখ্যা দিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার

মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে গতকাল পাকিস্তানকে একতরফাভাবে হারিয়েছে বাংলাদেশ। নিগার সুলতানা জ্যোতিদের ৭ উইকেটের জয়ের দিনে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ আলোচনায় এসেছে ভিন্ন এক কারণে। যার পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের সাবেক এক ক্রিকেটারের ধারাবিবরণী।

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যকার ও পাকিস্তানের মেয়েদের দলের সাবেক ক্রিকেটার সানা মীর তাঁর ধারাবিবরণীতে ‘আজাদ কাশ্মীর’ শব্দটি ব্যবহার করেন। আর তাতেই তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

ঘটনার সূত্রপাত মূলত পাকিস্তানের ইনিংসের ২৯তম ওভারে। তখন ক্রিজে ব্যাট করছিলেন পাকিস্তানের নাতালিয়া পারভেজ, বোলিং করছিলেন রাবেয়া খান। পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে তখন ২৮.২ ওভারে ৬ উইকেটে ৯৪ রান, সে সময় নাতালিয়া পারভেজের অতীতে খেলার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আজাদ কাশ্মীর শব্দটি ব্যবহার করেন সানা মীর।
 
পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক তখন বলেন, ‘নাতালিয়া - ও কাশ্মীর…আজাদ কাশ্মীর থেকে এসেছে, লাহোরে অনেক ক্রিকেট খেলেছে। ওকে লাহোরে গিয়েই বেশিরভাগ সময়ে ক্রিকেট খেলতে হয়।’ 

এমন মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ভারতীয় সমর্থকদের একটা বড় অংশ এটিকে আইসিসির নিয়মবহির্ভূত বলে আখ্যা দেন। ভারতীয় গণমাধ্যমেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে সানা মীর ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।
 
ব্যাপক সমালোচনার মুখে সানা মীর তাঁর অবস্থান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি টুইট করেন এবং নিজের মন্তব্যকে নিরপেক্ষ বলে দাবি করেন।
 
নিজের টুইটের সঙ্গে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর একটি ছবি দিয়ে সানা মীর লিখেন, ‘যেভাবে বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, এটি খুবই দুঃখজনক। খেলার সঙ্গে যুক্ত  মানুষদের এমন অপ্রয়োজনীয় চাপের মধ্যে পড়তে হয়। দুঃখের বিষয় যে আমাকে এ নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।’
 
সানা মীর তাঁর ব্যাখ্যায় আরও লেখেন, ‘একজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের তাঁর এলাকা নিয়ে করা আমার মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র এই তথ্য জানানো যে তিনি একটি বিশেষ অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন এবং কতটা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছেন। এটি ধারাভাষ্যের অংশ, যেখানে আমরা খেলোয়াড়রা কীভাবে বেড়ে উঠেছে তা নিয়ে কথা বলি। আজকের ম্যাচে আমি অন্য দুটি অঞ্চল থেকে আসা খেলোয়াড়দের সম্পর্কেও তো একই ধরনের কথা বলেছি। অনুগ্রহ করে এটিকে রাজনৈতিক রূপ দেবেন না।’   

একজন ধারাভাষ্যকারের কাজ কেমন হয়ে থাকে তা জানিয়ে সানা মীর বলেন, ‘পুরো বিশ্বে প্রচার হওয়া ম্যাচের একজন ধারাভাষ্যকার হিসেবে আমাদের কাজ হলো খেলা, দল ও খেলোয়াড়দের উপর আলোকপাত করা, এবং তাদের সংগ্রাম ও সাফল্যের অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প তুলে ধরা। আমার মনে কোনো বিদ্বেষ নেই বা কারও অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্যও নেই।’