মিরপুরে ১০ বছরের আক্ষেপ ঘুচালেন সাইফ-সৌম্য

মিরপুরের পিচে প্রথম দুই ওয়ানডে যারা দেখেছেন তাদের আজ চোখ কপালে তোলার অবস্থা। প্রথম দুই ম্যাচে উইকেটে টিকে থাকাই ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, সেই পিচে আজ সৌম্য সরকার-সাইফ হাসান দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, দুজনে মিলে মিরপুরের উইকেটে ১০ বছরের পুরনো এক আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন।
 
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৪ রান তোলার পথেই যে রেকর্ড গড়েছেন সৌম্য-সাইফ, তা বাংলাদেশের জন্য গর্বের চেয়ে বরং লজ্জার। এই জুটিই এ বছরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম ৫০ পেরোনো উদ্বোধনী জুটি! 

ফিফটি পেরোনো দুই ওপেনার ১৬তম ওভারে বাংলাদেশকে এক শ রানও পার করান। তাতেই মিরপুরের দশ বছরের একটা আক্ষেপ ঘুচল! ২০১৫ সালে ১১ নভেম্বরের পর মিরপুরে ওয়ানডেতে যে কোনো দল মিলিয়েই সেঞ্চুরি পাওয়া প্রথম উদ্বোধনী জুটি বনে গেল সৌম্য-সাইফের জুটি। 

২০১৫ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। এরপর এই দশ বছরে এর আগে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি ছিল শ্রীলঙ্কার দানুশকা গুনাথিলকা ও উপুল থারাঙ্গার অবিচ্ছিন্ন ৮৩ রানের। ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারির সে ম্যাচ অবশ্য বাংলাদেশের জন্য তেতো এক স্মৃতির – ৮২ রানে অলআউট হওয়ার পর ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।
 
১০ বছরের এমন আক্ষেপ ঘুচানোর পর আরও এক রেকর্ডে দ্বিতীয় হয়েছে সাইফ-সৌম্য জুটি। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে ওপেনিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন এ দুজন। ২৬তম ওভারে ৭২ বলে ৮০ রান (৬ চার, ৬ ছয়) করে সাইফ যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছেন, তখন বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১৭৬ রান - যা ওপেনিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। 

এতদিন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল মেহরাব হোসেন অপি ও শাহরিয়ার হোসেনের। এ দুজনে ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকায় ১৭০ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছিলেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং রানের জুটি তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের। এ দুজনে মিলে ২০২০ সালে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৯২ রানের জুটি গড়েছিলেন।