একটা বাউন্ডারির জন্য রেকর্ডটা হলো না বাংলাদেশের

রিশাদ হোসেনের করা ৩০তম ওভারে একটা ছক্কা আর তিনটা চার মেরেছেন আকিল হোসেন। ততক্ষণে ম্যাচের ফল নিয়ে শঙ্কা-টঙ্কার কিছু নেই, ১৪ বলে ২৭ রান করা আকিলের ব্যাটিং যা একটু বিনোদনই জুগিয়েছে। ৩১তম ওভারের প্রথম বলে মিরাজের বলে আকিল আউট হয়ে গেলেন, ১১৭ রানে অলআউট হয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটা ১৭৯ রানে জিতে সিরিজও ২-১ ব্যবধানে জেতা নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

এমন বিশাল জয়, তারওপর এ জয়ে টানা চার সিরিজে হারের ধারা কাটিয়ে আবার সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ – এমন দিনে অপ্রাপ্তি খুঁজতে যাওয়াও ‘ফৌজদারি অপরাধ!’ তবে এমন বড় ব্যবধানে জয়ের পর যখন ওয়ানডেতে রানের ব্যবধানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড দেখবেন, একটা ‘ইশ’ অনুভূতি না জেগে পারে না! শেষ ওভারে আকিল একটা চার কম মারলেই যে রেকর্ডটা ছোঁয়া হয়ে যেত বাংলাদেশের! ওই ওভারে পাঁচটা রান কম হলে নতুন রেকর্ডই হয়ে যেত!

তা হয়নি বলে রানের ব্যবধানে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০২৩ সালের মার্চে সিলেটে আয়ারল্যান্ডকে ১৮৩ রানে হারানোই থেকে যাচ্ছে তালিকার শীর্ষে।

অথচ আকিলের ক্যামিওর আগে বাংলাদেশের রেকর্ডটা হয়ে যাওয়াই ভবিতব্য বলে মনে হচ্ছিল। আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর সাইফ হাসানের ১৭৬ রানের জুটিতে পাওয়া ভিত পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি, এক সময়ে ৩৫০-র বেশি রানের সম্ভাবনা জাগানো ইনিংসে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৩০০-ও করতে পারেনি। ৫০ ওভার শেষ করেছে ৮ ওভারে ২৯৬ রান তুলে। তবে মিরপুরের পিচে এই রানও তো একেবারে ফেলনা নয়। ৫০ রান হতে হতে ৪ উইকেট আর ৭০ হতে হতে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলা উইন্ডিজ কত বড় ব্যবধানে হারবে, সে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই।

মিরপুরের এই উইকেট স্পিনারদের দিকে হাতটা সব সময় বাড়িয়ে রাখে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ ওভারই করাল স্পিনারদের দিয়ে, পরে বাংলাদেশের ইনিংসেও ৪২ ওভার মিলিয়ে ম্যাচে ৯২ ওভার হলো স্পিনারদের – দুটিই রেকর্ড। আজ বাংলাদেশও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসে ৩০.১ ওভারের পুরোটাই করাল চার স্পিনারকে দিয়ে। ১০ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন চারজন – তিনটি করে উইকেট নাসুম আহমেদ ও রিশাদ আহমেদের, দুটি করে নিয়েছেন মিরাজ ও তানভীর ইসলাম। তবে কিপ্টেমিতে এগিয়ে দুই বাঁহাতি নাসুম ও তানভীর।  

বাংলাদেশ ইনিংসের সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার আকিল ১০ ওভারে মাত্র ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশের বোলিংয়ে দুই বাঁহাতি তার পাল্টা জবাবই যেন দিলেন দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে। নাসুম ৩ উইকেট নেওয়ার পথে ৮ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১১ রান। তিন উইকেটও কোন তিনটি? ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান! ২৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনার অ্যালিক অ্যাথানাজে ও ব্র্যান্ডন কিং আর তিনে নামা আকিম অগাস্টেকে ফিরিয়ে উইন্ডিজের পাল্টা লড়াইয়ের সম্ভাবনা সেখানেই শেষ করে দিয়েছেন নাসুম। অ্যাথানাজে আর অগাস্টে এলবিডাব্লিউ, কিং বোল্ড!

উইন্ডিজের ব্যাটিং অর্ডারের পরের দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন তানভীর। পাঁচে নামা শাই হোপকে ১৪তম ওভারে, পাঁচে নামা কেসি কার্টিকে ২২তম ওভারে। এর মধ্যে অবশ্য রিশাদ ফিরিয়েছেন শেরফান রাদারফোর্ড আর রোস্টন চেইজকে। ৬৭ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তো উইন্ডিজ ১০০ পেরোতে পারে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল।

উইন্ডিজ ১০০ পেরিয়েছে, তবে বড় ব্যবধানে হার এড়ানো তো তাদের পক্ষে আর সম্ভব ছিল না। তা হয়ওনি। শুধু বাংলাদেশের রেকর্ডটা থেকে গেল একটা বাউন্ডারির দূরত্বে, এই যা!