ঘরের মাঠের সুবিধা সব দেশই নেয়: মিরাজ

বিতর্ক আর সমালোচনা সঙ্গী হলেও গতকাল মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ১৭৯ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে সিরিজটাও নিজেদের করে নিয়েছেন ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

তা বিতর্ক বা সমালোচনা কী নিয়ে, সেটা বোধহয় সবারই জানা- মিরপুরের কালো মাটির উইকেট! যে উইকেটে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইনিংসের ৫০ ওভারই স্পিন বোলিং করিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে উইন্ডিজ।

যে কারণে ঠিক এমন উইকেট বানিয়েছিল বাংলাদেশ, সেটা উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল হয়নি। উইন্ডিজকে ধবলধোলাই করতে পারলে র‍্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিবিয়ানদের টপকে যাওয়া যেত। তবুও সে দুঃখের ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিতে পারে গতকালের বড় জয়। কিন্তু এমন জয়ের পরও কিনা ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজকে কথা বলতে হলো মিরপুরের উইকেট নিয়ে। সেখানে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানিয়েছেন, ঘরের মাঠের সুবিধা সব দেশই নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেছেন, ‘আপনি পৃথিবীর যে জায়গায় খেলতে চান না কেন, যাদের সাথে আমরা খেলি না কেন, তারা কিন্তু হোম অ্যাডভান্টেজটা নেয়। আমরা নিউজিল্যান্ডে খেলেছি, ওখানে তারা হোম অ্যাডভান্টেজটা নিয়েছে। তাই কোনো দল যদি বাংলাদেশে আসে, আমরা তো অবশ্যই হোম অ্যাডভান্টেজ নেব।’

তবে ঘরের মাঠের সব সিরিজেই যে এমন কালো মাটির উইকেট দেখা যাবে না, সেটা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমাদের তো ঘরের মাঠে আরও অনেক সিরিজ আছে। আমরা যে সব ম্যাচই এখানে (মিরপুরে) খেলব, এ রকম কিছু নয়।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরের সংস্করণ অনুষ্ঠিত হবে সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াতে। ২০২৭ সালের সে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের টিকিট সরাসরি পেতে চাইলে বাংলাদেশকে র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তত নয়ের মধ্যে থাকতে হবে। বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে বাংলাদেশ। সে কারণে বাংলাদেশ অধিনায়ক মনে করেন, ঘরের মাঠের দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।

মিরাজ বলেছেন, ‘দিন শেষে সবাই রেজাল্টটাই চায়। হয়তো বিশ্বকাপে গিয়ে আমরা অনেক ভালো কিছু করতে পারিনি, সেটার জন্য আলাদা একটা প্রসেস এবং সেটার জন্য আলাদা একটা প্ল্যানিং করতে হবে। আমার কাছে মনে হয় যে সেই প্ল্যানিংটা হওয়া উচিত দুই থেকে তিন মাস আগে থেকে।’

বাংলাদেশ অধিনায়ক যোগ করেন, ‘বিশ্বকাপের আগে আমরা কীভাবে খেলবো, কীভাবে আমরা স্কিল ক্যাম্প করবো, কীভাবে আমাদের প্রিপারেশন থাকবে, সেটার জন্য আলাদাভাবে কোথায় আমরা প্র্যাকটিস করবো। সে জিনিসগুলো আগে থেকেই করা উচিত। আমার কাছে মনে হয়, ঘরের মাঠের সুবিধা নেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’