১৭ ওভার বাঁধ দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ, শেষ তিন ওভারে দেখেছে বন্যা

২৪ বলের মধ্যে ১৪টিই ডট। ৪ ওভারে নাসুম আহমেদ রান দিয়েছেন মাত্র ১৫, কোনো উইকেট অবশ্য পাননি। তাঁর ৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাউন্ডারি বলতে একটা ছক্কাই!

নিজের শেষ ওভারের শেষ বলে ছক্কাটা না খেলে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং ফিগারও এমনই থাকত, এর আগে তাঁর বলে একটিও বাউন্ডারি যে হয়নি! শেষ পর্যন্ত ‘ফিজ’ ৪ ওভারে দিয়েছেন ২৪ রান। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে তাঁর বলে রভম্যান পাওয়েলের সহজ ক্যাচটা তানজিম সাকিব ছেড়ে না দিলে একটা উইকেটও হতো মোস্তাফিজের।  

সেই রভম্যান পাওয়েলই পরে বাংলাদেশের আফসোসের নাম হয়ে উঠলেন। সে সময়ে তানজিম ক্যাচটা ধরতে পারলে পাওয়েল আউট হয়ে যেতেন ৭ রানেই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন ছিল ১১০। এরপরও ছন্দ খুঁজে পেতে পাওয়েলের সময় লেগেছে। ১৮তম ওভারের শেষ বলে তাসকিনকে তাঁর ইনিংসের প্রথম চারটি মারার আগে পাওয়েলের রান ছিল ১৯ বলে ১১।

কিন্তু সেই পাওয়েলই শেষ পর্যন্ত ১ চার ৪ ছক্কায় ২৮ বলে করেছেন ৪৪ রান। তাঁর সঙ্গে অধিনায়ক শাই হোপের (২৮ বলে ৪৬) ঝড়ে এমনই অবস্থা যে, একটা সময়ে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫০ পেরোতে পারবে বলেই সংশয় ছিল, তারা শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে তুলেছে ১৬৫ রান। তানজিম সাকিবের করা শেষ ওভারে ২২ রানসহ শেষ ৩ ওভারেই উইন্ডিজ পেয়েছে ৫১ রান!

শুরু থেকেই বাংলাদেশ বেশ আটকে রেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে উইন্ডিজ পেয়েছে ৩৫ রান, সেটাও হয়েছে চতুর্থ ওভারে তাসকিনের বলে অ্যাথানাজের তিন চারে ১৭ রান আসায়। পাওয়ার প্লের পর একটু হাত খুলতে শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার কিং ও অ্যাথানাজে – রিশাদ ও সাকিবের পরপর দুই ওভারে নেন যথাক্রমে ১৩ ও ১০ রান। কিন্তু নবম ওভারে রিশাদ ফেরান অ্যাথানাজেকে (২৭ বলে ৩৪)।

শাই হোপ নেমেই তাসকিনকে একটা ছক্কা মারলেন, ইনিংসের অর্ধেক অর্থাৎ ১০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান হলো ৭০। পরের ওভারে কিং ছক্কা মারলেন রিশাদের বলে। তবে ১৩তম ওভারে তাসকিনের জোড়া ধাক্কায় আবার পথ হারানোর দশা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। প্রথম বলে কিং (৩৬ বলে ৩৩), পরের বলে শেরফান রাদারফোর্ড।

এরপর পাওয়েল নেমে শুরুতে ব্যাটে-বলে করতে ধুঁকেছেন, তবে শাই হোপ অন্যদিকে রানের চাকা সচল রেখেছেন। ১৪তম ওভারে রিশাদকে প্রথম দুই বলেই দুটি ছক্কা মেরেছেন হোপ, ১৫তম ওভার শেষে ১০০ পেরোয় উইন্ডিজ। ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে সাকিবের ওই ক্যাচ মিস, ওই ওভারের শেষেও উইন্ডিজের রান ছিল ১১৪। তখনো বাংলাদেশের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ম্যাচে!

কিন্তু পরের তিন ওভারে ম্যাচটাকে লড়াকু বানিয়ে ফেলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৮তম ওভারে তাসকিনের প্রথম বলে ছক্কা মারলেন হোপ, শেষ বলে চার পাওয়েলের। ওভারে এল ১৫ রান। পরের ওভারে মোস্তাফিজকে শেষ বলে পাওয়েলের ছক্কা, এর আগের পাঁচ বলে দুটি ডাবল, তিনটি সিঙ্গেল আর একটি ওয়াইড মিলিয়ে ওভারে হলো ১৪ রান।

আর শেষ ওভারে তো হ্যাটট্রিকই করে ফেললেন পাওয়েল! ছক্কার হ্যাটট্রিক! ওয়াইড দিয়ে শুরু ওভারের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ – তিন বলকে মিড উইকেট আর লং অন গ্যালারিতে পাঠালেন।