প্রথম ম্যাচে রানতাড়ায় টপ অর্ডারের উইকেটগুলো টপাটপ পড়েছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অলআউটই হয়ে গেছে ২ বল বাকি থাকার সময়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে অলআউট হয়নি, ৮ উইকেট পড়েছে, তবে রানের চাপের সামনে মিডল ও লোয়ার অর্ডার লেজেগোবরে করে ফেলেছে। দুই ম্যাচেই হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের।
চট্টগ্রামে আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ রানতাড়ার চাপে আর যায়নি, টস জেতার পর আগে ব্যাটিং নিয়ে নিয়েছে। ইনিংসের দুই-তৃতীয়াংশ পেরিয়েও মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ আজ উইকেট টিকিয়ে রেখে শেষ ৪-৫ ওভারে ঝড় তোলার পরিকল্পনা নিয়েই বুঝি নেমেছে।
আর পরিকল্পনা! শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কী চেষ্টা করল তা বোঝা না গেলেও দেখা গেল, বাংলাদেশের কিছুই হলো না। না টিকল উইকেট, না হলো রান। ২০ ওভারের শেষ বলে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ রান তুলতে পেরেছে ১৫১।
ওপেনার তানজিদ তামিম ১১ ও ৫৫ রানে দুবার জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হয়েছেন ৬২ বলে ৮৯ রান করে। চার ‘ওপেনার’ নিয়ে নামা বাংলাদেশ সাইফ হাসানকে চারে পাঠিয়েছিল, তিনি ২২ বলে ২৩ রান করেছেন। এর বাইরে বাকি ব্যাটসম্যানরা কী করেছেন? এক বাক্যে বললে, টেলিফোন নাম্বার উপহার দিয়েছেন! আর কেউ যে দুই অঙ্কেই যেতে পারেননি! ৯, ৬, ৩, ১, ১, ৫, ০, ০, ৯ – তানজিদ আর হাসানও যোগ দিলে ১১ সংখ্যার একটা মোবাইল নাম্বার হয়ে যেত!
মুখোমুখি তৃতীয় বলে একটা ছক্কা মেরেও পারভেজ হোসেন ইমন শেষ পর্যন্ত ১০ বলে করলেন ৯ রান। নেমেই এগিয়ে এসে বাউন্ডারি মেরে ‘ইন্টেন্ট’ দেখানো লিটন দাস আউট হওয়ার পর দেখা গেল, তাঁরও ইনিংসে বলের চেয়ে রান বেশি – ৯ বলে ৬! এরপর তৃতীয় উইকেটে যা কিছু ব্যাটিং করলেন তামিম আর সাইফ।
শুরু থেকে বাংলাদেশের রানের গতি ধীরই ছিল। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে এসেছে ৪০ রান। অষ্টম ওভারে লিটন আউট হওয়ার সময়ে রান ছিল ৪৪। সাইফ আর তামিম মিলে ৯ থেকে ১২ – এই টানা চার ওভারে তুলেছেন ৪৫ রান। মনে হচ্ছিল, মোমেন্টাম পেয়েছে বাংলাদেশ।
কিন্তু এর পরের দুই ওভারে আর রান শুকিয়ে ফেলার মতো বোলিং-ফিল্ডিং করেছে উইন্ডিজ, দিয়েছে ৯ রান। রানের চাপ বেড়ে যাওয়াতেই কি না, ১৫তম ওভারে মারতে গিয়ে আউট সাইফ। হোল্ডারের তৃতীয় বলটাতে দারুণ পুলে ছক্কা মেরেছেন সাইফ, পরের বলেও পুল করেছেন। কিন্তু এবার বলটার গতি আরেকটু কমিয়ে দিয়েছেন হোল্ডার, স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ।
এরপর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যেন ‘আউট হলে ওভারের শেষ বলেই হব’ রোগ ধরা দিয়েছে! মেরেকেটে রানের গতি বাড়ানোর জন্য যাঁকে আগে নামানো হলো, সেই রিশাদ আউট হলেন ১৬তম ওভারের শেষ বলে। ১৭তম ওভারের শেষ বলে নুরুল। ১৮তম ওভারের শেষ বলে নাসুম। ১৯তম ওভারের শেষ বলে জাকের আলী।
এই ওভারের শেষ বলের মড়কের পর এমন অবস্থা হলো যে, শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে তামিম আর শরীফুলকে আউট করে যে হ্যাটট্রিকই হয়ে গেল শেফার্ডের, সেটা বুঝতে কিছুক্ষণ বাড়তি সময় লাগল! ওহ, ওই ওভারের শেষ বলে তাসকিনের রানআউটে অলআউট হওয়া সম্পন্ন হলো বাংলাদেশের।
এই লেজেগোবরে অবস্থার মধ্যে যা কিছু ব্যাটিং করেছেন তামিমই। দুবার জীবন পাওয়ার মাঝে ৩৬ বলে ফিফটি করেছেন (৭ চার ২ ছক্কায়)। তৃতীয় উইকেটে সাইফের সঙ্গে গড়েছেন ৪৩ বলে ৬৩ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হওয়ার আগে আরও দুটি করে ছক্কা আর চার মেরেছেন।