একদিন আগে রোহিত শার্মার রেকর্ড ভেঙেছিলেন বাবর আজম। গত শুক্রবার সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৮ বলে ১১ রান করেছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান, তাতেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় রোহিতকে পেছনে শীর্ষে উঠে যান বাবর আজম। একদিন পর, গতকাল শনিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আরেক ভারতীয় কিংবদন্তিকে পেছনে ফেলছেন বাবর। এবার কেড়ে নিয়েছেন বিরাট কোহলির রেকর্ড!
গতকাল লাহোরে সাউথ আফ্রিকার দেওয়া ১৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন বাবর। ইনিংসের ৬ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে সহজেই ম্যাচটা জিতে নেয় পাকিস্তান, একই সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেন সালমান আলী আঘারা।
পাকিস্তানের জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া ৬৮ রান খেলার পথেই কোহলিকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির একটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন বাবর। দেশের জার্সিতে এ সংস্করণে এ নিয়ে ৪০বার অন্তত ৫০ রানের ইনিংস খেললেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫০+ ইনিংস খেলার তালিকায় বাবরই এখন সবার ওপরে।
এর আগে ৩৯টি ৫০+ ইনিংস নিয়ে বিরাট কোহলির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন বাবর। গতকাল কোহলিকে পেছনে ফেলে রেকর্ডটা নিজের করে নেন পাকিস্তানি তারকা।
আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ৫০+ রানের ইনিংস
|
৫০+ রান |
ব্যাটসম্যান |
দল |
ইনিংস |
১০০ |
৫০ |
|
৪০ |
বাবর আজম |
পাকিস্তান |
১২৪ |
৩ |
৩৭ |
|
৩৯ |
বিরাট কোহলি |
ভারত |
১১৭ |
১ |
৩৮ |
|
৩৭ |
রোহিত শর্মা |
ভারত |
১৫১ |
৫ |
৩২ |
|
৩১ |
মোহাম্মদ রিজওয়ান |
পাকিস্তান |
৯৩ |
১ |
৩০ |
|
২৯ |
জস বাটলার |
ইংল্যান্ড |
১৩২ |
১ |
২৮ |
|
২৯ |
ডেভিড ওয়ার্নার |
অস্ট্রেলিয়া |
১১০ |
১ |
২৮ |
বাবরের রেকর্ডের দিনে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সাউথ আফ্রিকার শুরুটা হয়েছিল ভয়াবহ। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন কুইন্টন ডি কক ও লুহান-ড্রে প্রিটোরিয়াস। তবে পাকিস্তানের বোলিং সামলে রেজা হেনড্রিকস (৩৪) , ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (২১), ডোনোভান ফেরেইরা (২৯) ও শেষ দিকে করবিন বোশের (৩০) কল্যাণে ১৩৯ রানের সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা।
রান তাড়ায় শুরুতে উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। দলকে ৮ রানে রেখে মাত্র ১ রান করেই বিদায় নেন আগের ম্যাচে ৭৮ রান করা সাইম আইয়ুব। এরপর দলের হাল ধরেন বাবর। অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট গেলেও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। বাবরকে শুরুতে শাহিবজাদা ফারহান (১৯) ও পরে সালমান আঘা (৩৩) সঙ্গ দিয়েছেন।
পাকিস্তানের চতুর্থ উইকেট হিসেবে বাবর যখন আউট হলেন, তখন জয় থেকে মোটে ১৫ রান দূরে পাকিস্তান। শেষদিকে আরও দুই উইকেট হারালেও ম্যাচ ও সিরিজ- দুটোই নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান।