সিলেট টেস্ট

২৫ বছরে দ্বিতীয়বার, ১৫ বছর পর প্রথমবার এমন কিছু দেখল বাংলাদেশ

পাটা উইকেট। গতি খুব বেশি নেই, স্পিনও তেমন ধরেনি। মাত্র দুই দিন দেখা পিচে এখনো ফাটল ধরেনি। ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ উইকেট। আয়ারল্যান্ডের তেমন ভয় ধরানোর মতো স্পিনার বা পেসারও নেই। সব মিলিয়ে অনেক রান হওয়ার কথা, হয়েছেও। তবে সে পথে আজ সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ যেমন এক দিন উপহার দিয়েছে, তেমনটা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে বিরল।

আয়ারল্যান্ডের বাকি দুই উইকেট দিনের প্রথম মিনিট দশেকের মধ্যে তুলে নিয়ে তাদের ২৮৬ রানে অলআউট করে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাট হাতে স্রেফ ছড়ি ঘুরিয়েছে আইরিশদের ওপর। দিন শেষে বাংলাদেশের রান দ্বিতীয়বার চোখ কচলে দেখার মতো – ১ উইকেটে ৩৩৮! হাতে ৯ উইকেট রেখেই আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৫২ রানে এগিয়ে!

এমন দিনে এখন পর্যন্ত ক্রিজে নামা তিন ব্যাটসম্যানই দারুণ ব্যাটিং করেছেন, রানও পেয়েছেন বেশ। এই টেস্ট দিয়েই এপ্রিলের পর আবার দলে ফেরা ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় দিন শেষে অপরাজিত ১৬৯ রানে – তাঁর ১৯ টেস্টে ৩৫ ইনিংসে গড়ানো ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম দারুণ ব্যাটিং করেও সেঞ্চুরিবঞ্চিত থেকে গেছেন, ৮০ রানে আউট হয়েছেন। তাঁর উইকেটই দিনে আইরিশ বোলারদের একমাত্র প্রাপ্তি। এরপর তিনে নামা মুমিনুল হকও দিন শেষে ৮০ রানে অপরাজিত।

এই তিনজনের সৌজন্যেই বাংলাদেশ আজ এমন এক দিন পেল, যা বাংলাদেশের ২৫ বছরে টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয়বার এক ইনিংসে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের কাছ থেকেই ৫০+ ইনিংস দেখল। এর আগের কীর্তিটি ২০১০ সালের ২৭ মে, লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেদিন পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস এসেছিল তামিম ইকবাল (১০৩), ইমরুল কায়েস (৭৫) আর জুনায়েদ সিদ্দিকীর (৭৪) ব্যাট থেকে।

ওপেনিং জুটিতে ১৬৮ রান পাওয়া বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এখন পর্যন্ত পেয়েছে ১৭০ রান।

জয় পুরো দিনে স্ট্রোক প্লে-র পসরা সাজিয়েছেন। অফ সাইডেই চারগুলো মেরেছেন বেশি, বোলারের মাথার ওপর দিয়ে দুই দিকে চারটি ছক্কাও মেরেছেন। সাদমান কাভার আর মিডউইকেট অঞ্চলেই চারগুলো মেরেছেন বেশি, একটা ছক্কাও মেরেছেন মিড অফে। তবে চার-ছক্কার পাশাপাশি সাদমানের দ্রুত স্ট্রাইক বদলও নজর কেড়েছে। দুই ওপেনার প্রথম সেশনেই ফিফটি তুলে নিয়েছিলেন, লাঞ্চের আগে দলীয় এক শ রানও পেরিয়ে যায়।

লাঞ্চের পর সাদমান সেশনের মাঝামাঝি সময়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে গেছেন। মাঠের আম্পায়ার আউট দেননি, আয়ারল্যান্ড রিভিউ নেওয়ার পর রায় আসে, সাদমান আউট।

তবে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ওপেনিংয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ জুটির গড়ে দেওয়া ভিতের পর মুমিনুল নেমেই দ্রুতগতিতে রান তুলেছেন। চা বিরতির সময়ে বাংলাদেশ ২০০ থেকে ছিল ২ রান দূরত্বে, জয় সেঞ্চুরি থেকে ছিলেন ৬ রানের দূরে। চা বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই সেঞ্চুরিটা পেয়ে যান দারুণ এক চার মেরে – জয়ের টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর কিছুক্ষণ পর অন্য প্রান্তে মুমিনুল ফিফটিতে পৌঁছেছেন ছক্কা মেরে।