৬ বোল্ড, ২ এলবিডাব্লিউ, ২ রানআউট – বাংলাদেশ কাঁপিয়ে দিল পাকিস্তানকে  

মাঝে একটা ক্যাচ মিস করেছেন জিশান আলম। তবে সে সময়ে বেঁচে যাওয়া আরাফাত মিনহাস এরপর খুব বেশিদূর যেতে পারেননি। এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের ফাইনালে টস জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠানো বাংলাদেশের বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে খামতি খুঁজতে গেলে এতটুকুই পাওয়া যাবে।

দোহায় আজ এর বাইরে যে দারুণ বোলিং আর ফিল্ডিংয়ে শিরোপার পথে অর্ধেক কাজ এগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ‘এ’ দলের বোলার-ফিল্ডাররা। ১০ উইকেটের মধ্যে ৬টিই বোল্ড, ২টি এলবিডাব্লিউ, বাকি দুটি রানআউট! শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ‘এ’ দল পাকিস্তান শাহিনস ২০ ওভারে অলআউট না হলেও রান করতে পেরেছে ১২৫। শিরোপার পথে এখন বাকি দায়িত্বটা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটসম্যানদের কাঁধে।

টুর্নামেন্টে আগের সব ম্যাচে জিতেই ফাইনালে এসেছে পাকিস্তান। তাদের সঙ্গে জিততে গেলে শুরুটা দারুণ হওয়ার দরকার ছিল বাংলাদেশের। কী দারুণই-না হলো শুরুটা!

প্রথম বলেই আব্দুল গাফফার সাকলাইনের দারুণ ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তানের ওপেনার ইয়াসির খান রানআউট। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে মেহেরবের বলে বোল্ডই হয়ে গেলেন তিনে নামা মোহাম্মদ ফাইক। পাকিস্তান কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাংলাদেশের দুই ধাক্কা! পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে এরপর রাকিবুলের বলে বোল্ড চারে নামা গাজী ঘোরি (৯)। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তুলতে পারল ৪০ রান।

কিন্তু তখনো ওপেনিংয়ে নামা মাজ সাদাকাত টিকে ছিলেন বলে যদি শঙ্কা জেগে থাকে, সেটাও শেষ হয়ে গেল সপ্তম ওভারে। দলের রান ৫০ পেরোনোর ঠিক আগেই জিশানের বলে বোল্ড হয়ে গেলেন মাজ (১৮ বলে ২৩)।

পাঁচে নামা আরাফাত মিনহাস নেমেই কিছুটা তেড়েফুঁড়ে খেলার চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যে নবম ওভারে মিড অনে তাঁর সহজ ক্যাচ জিশানের হাতছাড়া হলো। বাংলাদেশের দারুণ শুরুতে আবার না কালিমা পড়ে, এই শঙ্কা তখনো যায়নি। কিন্তু শঙ্কাটা বেশিক্ষণ স্থায়ীও হতে পারল না।

১১তম ওভারে সাকলাইনের বলে বোল্ড মিনহাস (২৩ বলে ২৫)। ১৫তম ওভারে ইরফান খান (৯) যখন এলবিডাব্লিউ হচ্ছেন রাকিবুলের বলে, পাকিস্তানের রান তখনো ৭৫। উইকেট বাকি আর ৪টি।

কিন্তু সাতে নামা সাদ মাসুদ (২৬ বলে ৩ চার ৩ ছক্কায় ৩৮) পাকিস্তানকে লড়াই করার মতো স্কোর এনে দেওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছেন। সপ্তম উইকেটে শাহীদ আজিজের (৯) সঙ্গে মাত্র ২৫ বলেই সাদের জুটিতে এল ৪১ রান! তখন আবার মনে হচ্ছিল, পাকিস্তান বুঝি ১৫০-ও ছুঁয়ে ফেলবে!

কিন্তু রিপন মণ্ডলের এক ওভারেই আবার পাকিস্তানের আরও বেশি রান পাওয়ার সব আশা শেষ! ১৯তম ওভারে দ্বিতীয় বলে শাহিদকে এলবিডাব্লিউ করলেন ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে চোখধাঁধানো বোলিং করা রিপন, চতুর্থ বলে বোল্ড করে দিলেন বিপদজনক হয়ে উঠতে থাকা সাদকেও! পঞ্চম বলে উবাইদ শাহকেও বোল্ড করে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাই জাগিয়ে তুলেছিলেন রিপন, শেষ পর্যন্ত ওভারের শেষ বলে উইকেটটা আর এল না। হ্যাটট্রিক হলো না রিপনের। তবে ওই এক ওভারে তিন উইকেটেই ১১৬/৬ থেকে চোখের পলকে ১১৮/৯ হয়ে গেল পাকিস্তান!

শেষ ওভারের শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ১২৫-এর মার্কটা ছুঁতে পেরেছে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত রিপনের বোলিং ফিগার দাঁড়াল ৪ ওভারে ২৫ রানে ৩ উইকেট। ২ উইকেট নিলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়েছেন রাকিবুল। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেরব, সাকলাইন ও জিশান।