সিরিজের জয়ের মিশনে শুরুতে টস হারলেও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। পাওয়ার প্লেতে শুরুর দিকে আইরিশদের স্কোর বিনা উইকেটে ৩৮ রান যখন অনেকেই ভেবেছিলেন ফের বড় সংগ্রহ পেতে যাচ্ছে সফরকারীরা। কিন্তু মাঝ ওভারে রিশাদ হোসেন ও শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত কামব্যাকে মাত্র ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।
রিশাদ-মোস্তাফিজ ৩ টি করে উইকেট নিলেও প্রথম ইনিংসে রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। আজ বাংলাদেশের এই ওপেনার ক্যাচ নিয়েছেন ৫টি, যা এক ম্যাচে কোনো ফিল্ডারের যৌথভাবে সর্বোচ্চ। পূর্ণ সদস্যের দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ম্যাচে ৫টি ক্যাচ ধরার ঘটনা এটিই প্রথম।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আগের দুই টি-টোয়েন্টির মতোই উড়ন্ত সূচনা পায় আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিং ও টিম ট্যাক্টরের ব্যাটে প্রথম ৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে ২৪ রান। নিজের প্রথম ওভারে ৩ রান দেয়া শরীফুল ইসলাম চতুর্থ ওভারে এসে টানা দুই চার ও এক ছক্কায় ৫ বলে দিলেন ১৪ রান। তবে ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে টিম ট্যাক্টরের তিন বাউন্ডারির জবাবে উইকেটটা ঠিকই তুলে নেন শরীফুল। এই ডানহাতি ওপেনার ১০ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হন।
দলীয় ৩৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় আইরিশরা। উইকেট হারালেও আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকেন স্টার্লিং ও ক্রিজে আসা হ্যারি ট্যাক্টর। সাইফউদ্দিনের করা পঞ্চম ওভারে ১ চার ও ১ ছক্কায় ওভারে মোট ১২ রান নিয়ে দলীয় পঞ্চাশ পার করে আইরিশরা। তবে পাওয়ার শেষ ওভারে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে হ্যারি ট্যাক্টরকে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ।
পাওয়ার প্লে শেষে ২ উইকেট হারিয়ে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫১ রান। শুরুতে উড়ন্ত সূচনা পেলেও পাওয়ার প্লের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে আইরিশরা।
সপ্তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভারের জন্য বোলিংয়ে ফিরে প্রথম বলেই উইকেটের দেখা পান স্পিনার মেহেদী। লরকার টাকার রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বল ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হন। আম্পায়ার বাংলাদেশের এলবিডাব্লিউ'র আবেদনে সাড়া দেননি।
তবে রিভিউ নিলে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হন। ১ রানে ফেরেন টাকার।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া আইরিশরা ইনিংস ধীর গতিতে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। দশম ওভারে রিশাদ হোসেনের শেষ বলে ১৬ বল খেলা কার্টিস ক্যাম্ফার ৯ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন। দলীয় ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড।
মাঝ ওভারে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া আইরিশরা ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মুহূর্তে এক শ রান পূরণ করার আগে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে। অধিনায়ক পল স্টার্লিং ১২তম ওভারে রিশাদকে বড় বাউন্ডারি মারতে গিয়ে মিড উইকেটে সাইফকে ক্যাচ দেন। ২৭ বলে ৩৮ রান করে ফেরেন স্টার্লিং।
এরপর ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি গ্যারেথ ডেলানি। ১৬তম ওভারে ১২ বলে ১০ রান করে রিশাদ বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
শেষ দিকে ১২০ রানের গন্ডিও পার হতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। মোস্তাফিজুর রহমানের ১৮তম ওভারে জোড়া আঘাতে আইরিশ স্কোরবোর্ডে ১১০ রানে ৮ উইকেট। শেষ দুই ওভারে বাকি দুটি উইকেট শরীফুল ও সাইফউদ্দিন। ১ বল আগেই ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন রিশাদ-মোস্তাফিজ।