২ কোটি রুপি বেতন কমতে যাচ্ছে রোহিত-কোহলির, কিন্তু কেন?

টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সংস্করণকে বিদায় জানালেও এখনো ওয়ানডে চালিয়ে যাচ্ছেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শার্মা। এক সংস্করণেই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান যেভাবে পারফর্ম করছেন, তাতে দুজনকে অবসর ভেঙে টেস্টে ফেরার দাবিও উঠেছিল কয়েকদিন আগে।

এর মধ্যে কোহলি জানিয়েছেন, শুধু ওয়ানডে চালিয়ে যেতে চান তিনি। অবসর ভাঙা প্রসঙ্গে রোহিত কিছু না জানালেও তিনিও যে কোহলির দেখানো পথেই হাঁটবেন, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত! শুধু এক সংস্করণ খেলছেন বলে এবার এ দুই কিংবদন্তির বেতন কমাতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এক ধাপ নিচে নেমে যেতে পারেন কোহলি-রোহিত। তাতে দুজনের বার্ষিক বেতন দুই কোটি রুপি কমে যাবে।

বিসিসিআইয়ের সর্বশেষ ২০২৪-২৫ চক্রের বার্ষিক চুক্তিতে জাসপ্রীত বুমরা ও রাভীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন কোহলি ও রোহিত। ওই কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ ছিল গত বছরের ১লা অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এদিকে নতুন চক্র শুরু হলেও ২০২৫-২৬ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তি এখনো প্রকাশ করেনি বিসিসিআই। সে চুক্তি নির্ধারণের আগে আগামী বছরের ২২ ডিসেম্বর বিসিসিআইয়ের শীর্ষ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ বৈঠক (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কোহলি ও রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বোর্ড কর্মকর্তারা, এমনটাই উল্লেখ করেছে ভারতীয় আরেক সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস।

ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিসিসিআইয়ের নতুন বার্ষিক কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এক ধাপ অবনমিত হয়ে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে যেতে পারেন রোহিত ও কোহলি। সেক্ষেত্রে দুজনেরই বার্ষিক বেতন ২ কোটি রুপি কমে যাবে।

বিসিসিআইয়ের বার্ষিক কেন্দ্রীয় চুক্তির ধারা অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের সঙ্গে চারটি ক্যাটাগরিতে চুক্তি করে বোর্ড। যেখানে সর্বোচ্চ এ প্লাস ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা বার্ষিক ৭ কোটি রুপি পান, এ ক্যাটাগরিতে থাকারা পান ৫ কোটি রুপি এবং বি ও সি ক্যাটাগরিতে থাকারা যথাক্রমে ৩ ও ১ কোটি রুপি পান।

তা রোহিত ও কোহলির মতো অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটারের ক্যাটাগরি হঠাৎ নীচে নামার গুঞ্জন উঠেছে কেন? সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছে এনডিটিভি। সেখানে রেফারেন্স হিসেবে বিসিসিআইয়ের বার্ষিক চুক্তির নীতিমালা টেনে এনেছে সংবাদমাধ্যমটি।

কেন্দ্রীয় চুক্তির কাঠামো অনুসারে, চারটি বিষয়ের ওপর নজর রেখে নির্বাচক কমিটি, কোচ ও অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবছর চুক্তির তালিকা করে বিসিসিআই। সেখানে প্রধান শর্তই হচ্ছে সব সংস্করণে অংশগ্রহণ। ঐতিহ্যগতভাবে, যারা তিন সংস্করণেই খেলেন, তাদের এ প্লাস ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেট যারা নিজেদের পারফরম্যান্স ভালো করতে পারে, তারাও সর্বোচ্চ এ ক্যাটাগরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে।

চুক্তির দ্বিতীয় শর্তে পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতার দিকে নজর দেয় বোর্ড, এরপর প্রতি সংস্করণে বছরে ন্যূনতম ম্যাচ খেলা এবং ঘরো ক্রিকেটে অংশগ্রহণ বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের ক্রম করে বিসিসিআই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, রোহিত ও কোহলি যেহেতু এখন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলছেন না, তাই চুক্তিতে তাদের এক গ্রেড নেমে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা জেগেছে।

রোহিত-কোহলিদের যেখানে বেতন কমছে, সেখানে বেতন বাড়তে পারে শুভমান গিলের। আগের চুক্তিতে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা গিল বেতন পেতেন ৫ কোটি রুপি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওয়ানডে অধিনায়ক গিল ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাঁর বেতন ২ কোটি বেড়ে ৭ কোটি রুপি হবে।