১৮ বলে ৫৬ রানের দরকার, হাতে মাত্র ২ উইকেট- এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচে কীভাবে ফিরে আসা যায় তা-ই আজ দেখালেন ঢাকা ক্যাপিটালসের শামীম হোসেন। ১৭৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৭তম ওভারে ঢাকার স্কোর দাঁড়ায় ১১৬/৮। সেখান থেকে শামীমের দুর্দান্ত এক ইনিংসে শেষ ওভারে ২৭ রানের সমীকরণ দাঁড়ায় ঢাকার। প্রথম ২ বলে এক চার-এক ছক্কা ও দুইটি অতিরিক্ত রানে আসে ১২ রান।
শুরুর দিকে একতরফা ম্যাচ হলেও শেষ ৪ বলে ১৫ রানের প্রয়োজন ছিল ঢাকার। কিন্তু মোহাম্মদ আমিরের দায়িত্বশীল বোলিংয়ে শেষ বলে ৭ রানের সমীকরণ দাঁড়ালেও ঢাকাকে ম্যাচ জেতাতে পারেননি শামীম। ৬ রানে ম্যাচ জিতে সিলেট টাইটান্স। ৪৩ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কার ৮১ রানের ইনিংস বৃথা যায় শামীম হোসেনের।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি ঢাকা ক্যাপিটালস। স্কোরবোর্ডে ১ রান তুলতেই মোহাম্মদ আমিরের বলে ওপেনার জুবায়েদ আকবরি বোল্ড হয়ে ফেরেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারানো ঢাকা পাওয়ার প্লেতে আরও চাপে পড়ে যায়। ১৫ বলে ২১ রান করা উসমান খান ষষ্ঠ ওভারে নাসুম আহমেদের বলে বোল্ড হন।
উসমান ফেরা পরের বলেই ফিরেন আরেক ওপেনার সাইফ হাসান। ১৭ বলে ৯ রান করে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ফেরেন সাইফ। সপ্তম ওভারে সাইফের বিদায়ের ওমরজাইয়ের বলে গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। ৩৬ রানে ১ উইকেট থেকে এক ওভারের ব্যবধানে ঢাকার স্কোর দাঁড়ায় ৩৭/৪।
দলীয় পঞ্চাশ রানের আগে নাসির হোসেনকেও( ৫রান) হারায় ঢাকা। ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারানো ঢাকার বিপর্যয়ে হাল ধরেন শামীম হোসেন ও সাব্বির রহমান। এই দুজনে মিলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
১৩তম ওভারে তাদের ৪৬ রানের জুটি ভাঙেন নাসুম। ১৯ বলে ২৩ রান করে ফেরেন সাব্বির। ৮৯ রানে ৬ উইকেট হারায় ঢাকা। এক প্রান্ত থেকে শামীম হোসেন রানের গতি বাড়াতে থাকলেও বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে।
সাব্বিরের পর ইমাদ ওয়াসিম ও সাইফউদ্দিনের বিদায়ে ম্যাচ ছিটকে যায় ঢাকা। ১১৬ রানে ৮ উইকেট হারালেও শেষ দিকে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্যাপিটালসের সমর্থকদের আশা দেখান শামীম।
১৮ বলে ৫৬ রানের যখন প্রয়োজন তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন সহজ জয় পেতে যাচ্ছে সিলেট টাইটানস। কিন্তু শেষ দিকে শামীমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সমীকরণ দাঁড়ায় ৪ বলে ১৫ রানের। মোহাম্মদ আমিরের করা শেষ ওভারে খানিকটা উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত ৬ রানে ম্যাচ জিতে নেয় সিলেট। ৪৩ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন শামীম। সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ওমরজাই।
এর আগে টস জিতে সিলেটকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা। শুরুতে ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধীর গতির ক্রিকেট খেললেও শেষ দিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ২৪ বলে ৫০ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায় সিলেট।