আইপিএলে রেকর্ড দামে দল পেলেও খেলা হবে না মোস্তাফিজুর রহমানের। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এ ঘটনার পর থেকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় আইসিসির কাছে চিঠি পাঠাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এছাড়া বিসিসিআইয়ের কাছেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইবে বিসিবি।
এদিকে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পাশাপাশি ঘটনাটির মোটিভ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
গতকাল শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে ফারুকী লিখেছেন, ‘আইপিএলে মোস্তাফিজকে নিয়ে যা হয়েছে, সেটা ন্যক্কারজনক। এর মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকেরা ঘৃণার রাজনীতি দেখতে পেয়েছেন এবং ব্যথিত হয়েছেন।’
ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। বাংলাদেশি ক্রিকেটার বিরোধিতার সঙ্গে সেই বিষয়টির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা, ‘আপনারা জানেন গত কিছুদিন ধরে ভারতে সংখ্যালঘু মানুষের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে। এই ঘটনাও একই মোটিভ দ্বারা প্রভাবিত কি না, সেটা নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট মহল খতিয়ে দেখবে। ভবিষ্যতে আমাদের ক্রিকেট বা ফুটবল টিম সেখানে কতটা নিরাপদ, এটাও দেখা হবে নিশ্চয়ই।’
এদিকে নিরাপত্তা ইস্যুতে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমনটাই দাবি করেছে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সেখান থেকেই প্রশ্নটা উঠছে, এক মোস্তাফিজকে যদি ভারত নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে বাংলাদেশ দল কতটা নিরাপদ?
এমন প্রশ্ন তুলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও। মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। এদিকে অনেকে ভুল করে ফারুকীকে সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধ করছেন। বিষয়টি ধরিয়ে দিয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তিনিও তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে আইপিএল সম্প্রচার নিয়ে বলেছেন।
এ প্রসঙ্গে ফারুকী লিখেছেন, ‘কিন্তু আপনারা যারা আমাকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশে সব রকম প্লাটফর্মে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করতে বলছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত উত্তর- এটা আসলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমি আপনাদের এই উদ্বেগের বিষয় তথ্য উপদেষ্টা মহোদয়কে জানিয়েছি।’