বাংলাদেশ ক্রিকেটে সিংহভাগ অর্থ আসে আইসিসি থেকে। চলমান সংকটে তাড়াহুড়ো না করে সতর্ক হয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, বলেছেন তামিম ইকবাল। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, তা চিন্তা করেই সমাধান খোঁজার পরামর্শ সাবেক অধিনায়কের। বোর্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রতিক্রিয়া বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে, তাই গণমাধ্যমে সতর্কতার সাথে কথা বলায় গুরুত্ব দিয়েছেন তামিম।
বাংলাদেশ-ভারতের শীতল সম্পর্ক এখন গরম আইপিএল ও মোস্তাফিজ ইস্যুতে। ভারতের হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠনের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে বিতর্কিতভাবে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর জেরে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান বাংলাদেশের। সরকারি পর্যায়ে বৈঠক করেই এমন সিদ্ধান্তের নির্দেশনা পেয়েছে বিসিবি। ভেন্যু সরিয়ে নিতে আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় সমাধান খোঁজার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের ভাষ্য, ভবিষ্যত চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আজ রাজধানীর সিটি ক্লাব মাঠে জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল আয়োজিত জিয়া ইন্টার ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তামিম এসব কথা বলেন।
ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার যে সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের, এ ব্যাপারে পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো মতামত দেননি তামিম। তিনি নিজে বিসিবিতে থাকলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন, সেটি জানাতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা নিতাম ভবিষ্যৎ চিন্তা করে। হ্যাঁ, অনেক কিছুই ঘটছে। এই মুহূর্তে মন্তব্য করা জটিল। তবে একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে সবাই মিলে আলোচনা করে অনেক কিছু সমাধান করা যায়। ক্রিকেট বিশ্বে আপনার নিজের অবস্থান কোথায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে — সবকিছু মিলিয়েই আমি সিদ্ধান্ত নিতাম।’
ভারত ক্রিকেটের পরাশক্তি, আইসিসির চেয়ারম্যানও তাদের। দেশের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবির যৌক্তিক দাবি কী শেষপর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে? সংকট বাড়লে প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের মতামতের পাশাপাশি বিসিবিরও নিজস্ব অবস্থান থাকা উচিত জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা বিসিবিকে একটা স্বাধীন সংস্থা মনে করি। অবশ্যই সরকার এটার বড় অংশ। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু বিসিবিকে আমরা স্বাধীন সংস্থা মনে করলে বোর্ডের নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্তও থাকতে হবে। তারা যদি মনে করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক, তাহলে ওই সিদ্ধান্তই নিতে হবে।’
আইপিএল থেকে বিতর্কিতভাবে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া এবং বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে দুদেশের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। এখন বিসিবি থেকে বিচ্ছিন্ন প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। তাই বোর্ডকর্তাদের গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার, তামিমের মতে।
মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়া দুঃখজনক বলেছেন তামিম।
বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্ব বাতিল করে সিলেটে এত ম্যাচ আয়োজনের সমালোচনা করেন তামিম ইকবাল। বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।