১৭৫ রানের লক্ষ্য। মিরপুরের পিচ বলে লক্ষ্যটা আরও কঠিন হয়ে ওঠার কথা। সব মিলিয়ে বিপিএল ফাইনালে আজ চট্টগ্রাম রয়্যালসকে বড় চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। কিন্তু এমন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম এমনভাবেই ভেঙে পড়ল যে, গর্জনের জবাবে যেন মিউ মিউ আওয়াজ হলো!
শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১১১ রানে অলআউট হয়ে গেছে চট্টগ্রাম। ৬৩ রানে জিতে বিপিএলের শিরোপা-উৎসব করছে এবারের বিপিএলে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
আগে ব্যাট করে তানজিদ হাসান তামিমের দারুণ সেঞ্চুরিতে (৬২ বলে ৬ চার ৭ ছক্কায় ১০০) রাজশাহী ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৪ রান। জবাবে তাড়া করবে কী, উইকেট সামলাতেই প্রাণান্ত অবস্থা চট্টগ্রামের। দুই অঙ্কে গেছে শুধু চার ব্যাটসম্যানের রান, এর মধ্যে ২০-এর ঘরে গেছেন বা পার করেছেন শুধু দুজন – ওপেনার মির্জা বেগ (৩৬ বলে ৩৯) ও সাতে নামা আসিফ আলী (১৬ বলে ২১)।
তৃতীয় ওভারে তিন বলের মধ্যে ওপেনার নাঈম শেখ (১০ বলে ৯) ও তিনে নামা মাহমুদুল হাসান জয় ফিরলেন, দুজনেরই বিদায় দলকে ১৮ রানে রেখে। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে বিদায় নিলেন হাসান নাওয়াজও (১১)। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে চট্টগ্রামের রান দাঁড়াল ৩ উইকেটে ৪০। দশ ওভার শেষ হওয়ার আগে জাহিদুজ্জামানেরও বিদায় দেখা চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদিকে হারায় ১২তম ওভারে, তখন রান ৫ উইকেটে ৭২। জয়ের আশা আর থাকে কোত্থেকে!
মির্জা বেগ আর আসিফ আলী যা-ও কিছু রান করেছেন, তা মোটেও এমন চ্যালেঞ্জের জবাব দেওয়ার মতো স্ট্রাইক রেটে নয়। এর মধ্যে মির্জা বেগ যখন ১৪তম ওভারের শেষ বলে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে গেলেন দলকে ৯২ রানে রেখে, চট্টগ্রামের মোটামুটি সম্মানজনক হার পাওয়া-না পাওয়ার সমীকরণই তখন দাঁড়িয়ে গেল আসিফ আলীর ব্যাটের নির্ভরতায়।
আসিফ ১৭তম ওভারের প্রথম বলে দলকে ১০৯ রানে রেখে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন, ১৮তম ওভারের মধ্যে চট্টগ্রামের হিসেব-নিকেশ চুকেবুকে দিল রাজশাহী।
রাজশাহীর শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো ৩ ওভারে মাত্র ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। বাংলাদেশি বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ৩ উইকেট নিয়েছেন ৪ ওভারে ১৫ রান দেওয়ার বিনিময়ে।