দেশের ক্রীড়াঙ্গণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী তিন মাসের মধ্যে সব জেলা, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং ক্রীড়া ফেডারেশনের নির্বাচন আয়োজনের সুপারিশ করেছে ‘ক্রীড়াঙ্গণে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে’ গঠিত কমিটি। প্রথম ধাপে ২৬টি ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন কমিটির সুপারিশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বাকি ফেডারেশনগুলোর কমিটির সুপারিশও জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। এ সময় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন, আমিনুল হক দেওয়ান সজল ও জাহেদ পারভেজ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ ক্রীড়া ফেডারেশন এবং জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা বর্তমানে অ্যাডহক বা দীর্ঘদিনের একপেশে কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব কমিটিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ক্রীড়াঙ্গণে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রাথমিকভাবে ২৬টি কমিটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিতে পারে।’
তিনি জানান, প্রথম ধাপের ২৬টি ফেডারেশনের অধিকাংশই অলিম্পিকভুক্ত এবং এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী সংস্থা। ‘যারা নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্বে আসবেন, তারাই এশিয়ান গেমসসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আমরা নির্বাচন করিয়েই ছাড়ব,’ বলেন তিনি। নির্বাচন পরিচালনায় সক্ষম ব্যক্তিদেরই এসব কমিটিতে রাখা হয়েছে বলেও জানান তারা।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কেউ নতুন কমিটিতে থাকতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রেদোয়ান বলেন, ‘রাজনৈতিক পদধারীরা নয়, বরং যারা ক্রীড়াঙ্গনে ত্যাগী, কর্মঠ এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’ বিতর্ক এড়াতে জেলা ও ফেডারেশনে সুষ্ঠুভাবে নিবার্চন আয়োজনে ছয়টি উপকমিটি করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভূয়সী প্রশংসা করে রেদোয়ান বলেন, ‘তিনি ব্যতিক্রমধর্মী একজন মানুষ। ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে তিনি কিছু করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্য আমিনুল হক দেওয়ান সজল বলেন, ‘খেলার মাঠ হবে সবার। বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয় এখানে মুখ্য নয়। ক্রীড়াঙ্গণে আমরা রাজনীতিকে প্রাধান্য দিতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হবে যোগ্য, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকদের মাধ্যমে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়া।’



