১৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটেই ৯৮ রান তুলেছিল পাকিস্তান। ইনিংসের তখন সবে ১১ ওভার। হাতে ৮ উইকেট থাকা পাকিস্তানের জয়ের জন্য শেষ ৫৪ বলে ৫০ রান দরকার। ম্যাচটা যে পাকিস্তান অনায়াসেই জিততে যাচ্ছে, এমনটাই ছিল অনুমেয়।
কিন্তু দলটা যখন পাকিস্তান, তখন কি আর সহজ ম্যাচ সহজে জিতবে! পরের ৭ ওভারে পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পেরেছে মোটে ২১ রান। আর এ রান তুলতেই দলটি হারিয়েছে ৫ উইকেট!
তাতে শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ২৯ রানের সমীকরণ পাকিস্তানের সামনে। ম্যাচের পাল্লা তখন নেদারল্যান্ডসের দিকেই হেলে। এমন পরিস্থিতি পাকিস্তানের ত্রাণকর্তা রূপে হাজির হন ফাহিম আশরাফ। লোগান ফন বেকের করা ১৯তম ওভারে ৩ ছক্কা ও ১ চারে ২৪ রান তুলে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে আনেন। বাস দে লিডির পরের ওভারে তৃতীয় বলে চার মেরে পাকিস্তানকে জয়ের আনন্দে ভাসান ওই ফাহিম আশরাফই।
সহজ ম্যাচ কঠিন করার পর শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৩ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচটা জিতেছে পাকিস্তান। দলকে জেতানোর পথে ১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ রানের অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ফাহিম আশরাফ। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের শুরুতেই বড় অঘটনের হাত থেকে বাঁচান পাকিস্তানকে।
পাকিস্তানের শঙ্কাটা কোথায় ছিল? ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটা না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কিছুটা ব্যাকফুটে থেকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। টুর্নামেন্টের অন্যান্য দল যেখানে গ্রুপ পর্বে ম্যাচ খেলবে চারটি করে, সেখানে পাকিস্তান খেলবে তিন ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে না খেলায় রানরেটে তো ঝক্কি পড়বেই, তার ওপর গ্রুপ পর্বের বাকি তিন ম্যাচের কোনোটিতে ফল এদিক-সেদিক হলেই বিদায়ের শঙ্কা। আজ সেই শঙ্কা জাগলেই শেষ পর্যন্ত ফাহিম আশরাফের কল্যাণে এ যাত্রায় বেঁচে গেল পাকিস্তান।
অথচ রান তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। শুরুতেই ঝড় তুলেছিলেন সাইম আইয়ুব। তবে ইনিংস খুব বেশি লম্বা করতে পারেননি ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে সাইম আইয়ুব যখন আউট হলেন, তখন পাকিস্তানের রান ২৭। এর মধ্যে ১৩ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ রান নিয়েছেন আইয়ুব।
পাওয়ার প্লে- শেষ হওয়ার আগে অধিনায়ক সালমান আলী আঘার উইকেটটাও হারিয়েছে পাকিস্তান। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে কাভার পয়েন্টে লেভিটের হাতে ধরা পড়েন ৮ বলে ১২ রান করা সালমান। তাতে পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৬১ রান।
এরপর জুটি পড়ে পাকিস্তানকে জয়ের দিকে টানতে থাকেন সাহিবজাদা ফারহান ও বাবর আজম। কিন্তু দলকে ৯৮ রানে রেখে বিদায় নেন ফিফটি থেকে তিন রান দূরে থাকা ফারহান। ফন মিকিরিনের বলে আউট হওয়ার আগে ৩১ বলের ইনিংসে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ রান করেছেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।
দলের রান একই থাকতে উসমান খানের উইকেটটাও হারায় পাকিস্তান। রানের খাতা খোলার আগেই উসমান খানকে বোল্ড করেন মিকিরিন। পরের ওভারে এসে বাবর আজমের উইকেটটা নেন ফন ডার মারউই।
মুহূর্তেই পাকিস্তানের স্কোরবোর্ড ২ উইকেটে ৯৮ রান থেকে ৫ উইকেটে ১০০। ২ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদেই পড়ে পাকিস্তান।
একটু পরেই সেই বিপদের মাত্রা আরও বেড়ে যায় পাকিস্তানের। ইনিংসের ১৬তম ওভারের শেষ বলে দলকে ১১৪ রানে রেখে বিদায় নেন নেওয়াজ। পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট শাদাব খান।
১৮ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ১১৯ রান। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে তখন পাকিস্তানের দরকার ২৯ রান। রীতিমতো অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া এভারেস্ট পাড়ি দেওয়ার মতো অবস্থা। সেই অবস্থা থেকেই পাকিস্তানকে জয় এনে দেন ফাহিম আশরাফ।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নেদারল্যান্ডসও ভালো শুরু পেয়েছিল। প্রথম তিন ওভারে বিনা উইকেটে স্কোরবোর্ডে ২৮ রান তোলে ডাচরা। তবে চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ম্যাক্স ও’ডাউডকে (৫) ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ব্রেকথ্রু এনে দেন সালমান মির্জা। পরের ওভারে আরেক ওপেনার মিচেল লেভিটকে ২৪) ফেরান মোহাম্মদ নেওয়াজ।
লেভিটের উইকেটের পাশে শাহিন আফ্রিদির ক্যাচ উল্লেখ থাকলেও এ উইকেটে বাবর আজমের অবদান কম নয়। লং অফ থেকে দৌড়ে শুরুতে বলটা ধরেছিলেন বাবর, কিন্তু শরীরের নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যান। লাইন অতিক্রম করার ঠিক আগ মুহূর্তে বল ভেতরে ফেরত পাঠান বাবর, সেটা লুফে নেন শাহিন আফ্রিদি।
৩১ রানে ২ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডস পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে রান ৫০ এ নিয়ে যায়। ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতেও (৭ থেকে ১৫) একই গতিতে খেলতে থাকে নেদারল্যান্ডস। এ সময় হওয়া ৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ৭৩ রান যোগ করে দলটি। তাতে ১৫ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১২৩ রান।
এমন অবস্থা থেকে হয়তো বড় সংগ্রহের কথাই ভাবছিলেন দলটির সমর্থকেরা। তবে শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং করে নেদারল্যান্ডসকে দেড়শ এর নিচেই আটকে দেন পাকিস্তানি বোলাররা। নেদারল্যান্ডস শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে ২০ রানের মধ্যে!
নেদারল্যান্ডসের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেছেন দলটির অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডস। এছাড়া বাস ডে লিডি ৩০, লেভিট ২৪ ও কোলিন আকারমান ২০ রান করেছেন। এর বাইরে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন শুধু আরিয়ান দুত (১৩)।
অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন সালমান মির্জা। এছাড়া নেওয়াজ, আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুব দুটি করে এবং শাহিন আফ্রিদি একটি উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্য সাইম আইয়ুব এক ওভার বোলিং করে ৭ রানেই উইকেট দুটি নিয়েছেন।