নাটক, মহানাটক নাকি তার চেয়েও বেশি কিছু? আহমেদাবাদে আজ বুধবার আফগানিস্তান-সাউথ আফ্রিকা ম্যাচের শেষ দিকে যা হলো, সেটি বর্ণনায় সঠিক বিশেষণ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর!
আউট-নো বল-রান আউট-সুপার ওভার নাটক শেষে আবারও সুপার ওভার! সেখানেও ম্যাচের পাল্লা এদিক-সেদিক দুলতে থাকে। তবে দুই সুপার ওভারের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হেসেছে সাউথ আফ্রিকা!
ম্যাচের নাটকীয়তা ব্যাখ্যা করা যাক। ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তানের জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৩ রান। হাতে মোটে ১ উইকেট! কাগিসো রাবাবার করা প্রথম ডেলিভারিটি ছিল লোয়ার ফুলটস, সেটাতে বলে ব্যাট চালিয়ে কাভারে মার্করামের হাতে ধরা পড়েন নুর আহমেদ! জয়ের আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায় সাউথ আফ্রিকার কয়েকজন ক্রিকেটারকেও।
কিন্তু সাউথ আফ্রিকার আনন্দে জল ঢাললেন আম্পায়ার। বল করার সময় রাবাদার পা লাইন অতিক্রম করায় দেখালেন নো বলের সংকেত। ম্যাচে টিকে থাকল আফগানরা। ওভারের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে তুললেন নুর আহমেদ। পরে আরও একটি নো বল করলেন রাবাদা।
একপর্যায়ে আফগানদের জয়ের জন্য দরকার ৩ বলে ২ রান। ম্যাচ পুরোপুরি আফগানদের হাতে। এমন পরিস্থিতিতে ওভারের চতুর্থ বলে দৌড়ে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হলেন ফজল হক ফারুকি! তাতে আফগানিস্তান অলআউট হলো বলে, কিন্তু ততক্ষণে স্কোরবোর্ড ১৮৭ রান। অর্থাৎ, স্কোর লেভেল। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
প্রথম সুপার ওভার সমতায় শেষ হলে ম্যাচ আবার গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। সেখানে আর পেরে ওঠেনি আফগানিস্তান। তাতে টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চার বারের দেখায় জয়ের রেকর্ড শতভাগ অক্ষুণ্ন রাখল সাউথ আফ্রিকা।
এনগিডির করা প্রথম সুপার ওভারে ২ চার ১ ছক্কায় ১৭ রান তোলে আফগানরা। ১৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ফারুকির প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন মিলার। স্ট্রাইক পেয়ে পরের বলেই ছক্কা মারেন ব্রেভিস। কিন্তু ওভারের তৃতীয় বলে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দেন তিনি। ৩ বলে ১১ রান দরকার সাউথ আফ্রিকার। পরের বল চার, এরপর ডট। শেষ বলে সাউথ আফ্রিকার জয়ের সমীকরণ ৭ রানের। দুর্দান্ত এক ছক্কা মেরে সুপার ওভারও সমতায় শেষ করেন ত্রিস্তান স্তাবস।
দ্বিতীয় সুপার ওভারেও নাটক কম হয়নি। আজমতউল্লাহ উল্লাহ ওমরজাইয়ের করা ওভারে স্তাবস ও মিলার মিলে ৩ ছক্কায় ২৩ রান তোলেন। ২৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় কেশভ মহারাজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। আফগানদের তখন ৪ বলে ২৪ রান দরকার। পরপর ৩ বলে ৩ ছক্কা মেরে উত্তেজনার পারদ শীর্ষে তোলেন গুরবাজ। এক ওয়াইডের পর ১ বলে ৫ রান দরকার ছিল আফগানিস্তানের, কিন্তু কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পরেন গুরবাজ। তাতে নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ম্যাচটা সাউথ আফ্রিকা জিতে যায় ৪ রানে!
এর আগে নির্ধারিত ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে কুইন্টন ডি কক (৪১ বলে ৫৯ রান) ও রায়ান রিকলটনের (২৮ বলে ৬১ রান) ফিফটিতে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে সাউথ আফ্রিকা। জবাবে রহমানউল্লাহ গুরবাজের ৪২ বলে ৮৪ ও শেষ দিকে রাশিদ খান-নুর আহমেদের ক্যামিওতে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যায় আফগানিস্তান।