অস্ট্রেলিয়াকে হারাল জিম্বাবুয়ে

১৯ বছর পর এমন জয়...পুঁচকে দলটা এতটা কল্পনাও কী করেছিল!

২০তম ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের থ্রোতে রান আউটের আবেদন গেল টিভি আম্পায়ারের কাছে। রিপ্লে দেখেই আনন্দে মাঠের মাঝে দৌড় দিলেন জিম্বাবুয়ের ডাগআউটে থাকা ক্রিকেটাররা। কলম্বোতে এমন উল্লাসের কারণ তো একটাই - অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে আধিপত্য দেখিয়েই জিতে গেছেন সিকান্দার রাজারা। তাও আবার ১৯ বছর পর এমন অর্জন!

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। এরপর আজ কলম্বোতে এই বিশ্বকাপের মঞ্চেই ২৩ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছে দলটি। 

'বি' গ্রুপে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ওভারেই ট্রাভিস হেড ও জস ইংলিস মিলে ১৩ রান তোলেন। অস্ট্রেলিয়ার কাছে লক্ষ্যটাকে সহজই মনে হচ্ছিল, কিন্তু কলম্বোতে প্রথম ওভারের পর অন্য রকম এক জিম্বাবুয়ের দেখা মেলে। 

দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ব্লেসিং মুজারাবানি ওপেনার জস ইংলিসকে ফেরান। ৮ রান করে ইংলিস ফিরে গেলে পরের ৩ ওভারে ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড ও ট্রাভিস হেডকেও হারায় অস্ট্রেলিয়া। ১৩ রানে শূন্য উইকেট থেকে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। 

দ্রুত ৩ উইকেট হারালেও মাঝ ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশর জুটিতে ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এ দুজনের ব্যাটে ১৪তম ওভারে দলীয় এক শ রান পার করে তারা। শেষ ৬ ওভারে ৬৫ রানের সমীকরণ দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়ার, তবে জিম্বাবুয়ের বোলাররা পথ হারায়নি। 

১৫তম ওভারে রায়ান বার্লের লেগ স্পিনে ম্যাক্সওয়েল (৩২ বলে ৩১) বোল্ড হলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের আশা ক্ষীণ হয়ে আসে। যদিও মার্কাস স্টয়নিস ক্রিজে আসায় জিম্বাবুয়ের সমর্থকরা তখনও হয়তো জয়ের স্বপ্ন দেখতে পারছিলেন না।

কিন্তু বোলিংয়ের সময় হাতে আঘাত পাওয়া স্টয়নিস (৪ বলে ৬) পরের ওভারেই হ্যামিল্টন মাসাকাদজার স্পিনে আউট হলে ম্যাচ জিম্বাবুয়ের দিকে হেলে পড়ে। শেষ দিকে ফিফটির দেখা পাওয়া রেনশ অস্ট্রেলিয়ার আশার আলো হলেও ১৯তম ওভারে এই বাঁহাতি (৪৪ বলে ৬৫) ফিরে গেলে জিম্বাবুয়ের জয় এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়। 

শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ের হয়ে ১৭ রানে ৪ উইকেট নেন মুজারাবানি। ২৩ রানের জয়ে এখন পর্যন্ত ২ ম্যাচেই অপরাজিত জিম্বাবুয়ে। 

এর আগে ব্রায়ান বেনেটের ৫৬ বলে ৬৪ রান, তাদিওয়ানাশে মারুমানির ২১ বলে ৩৫, রায়ান বার্লের ৩০ বলে ৩৫ এবং রাজার অপরাজিত ১৩ বলে ২৫ রানের ইনিংসে ২০ ওভারে ১৬৯ রানের সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।