এবারের বিশ্বকাপে নেপালের শুরুটা হার দিয়ে হলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে দলটি, তাতে ক্রিকেট বিশ্বেই আলোড়ন তুলেছে নেপাল। কিন্তু ইংলিশদের বিপক্ষে দুর্দান্ত দাপট দেখানো দলটিই কিনা চারদিন পর ইতালির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। এতে ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে নেমে গেছে নেপালিরা।
আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবারও ম্যাচ আছে নেপালের। এ ম্যাচে হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়বে নেপালিরা। এমন ম্যাচের আগে দলটির প্রধান কোচ স্টুয়ার্ট ল ক্রিকেটারদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বের হয়ে ক্রিকেটে মন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইংল্যান্ড আর ইতালির বিপক্ষে- দুই ম্যাচে ভিন্ন দুই নেপালকে দেখা গেছে। পারফরম্যান্সের এমন উত্থান-পতনের নেপথ্যে সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব থাকতে পারে- এমনটাই ইঙ্গিত করেছেন স্টুয়ার্ট ল।
সংবাদ সম্মেলনে নেপাল কোচ বলেছেন, ‘এখন আমাদের ভাবতে হবে, ইংল্যান্ড ম্যাচ থেকে ইতালি ম্যাচের পারফরম্যান্সে কেন এত পার্থক্য তৈরি হলো? কারণটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এখানে (সংবাদ সম্মেলন কক্ষে) যদি কোনো নেপালি থাকেন, তারা জানেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া নেপালের সংস্কৃতির একটা বড় অংশ। এটা আমি বুঝি। কিন্তু আমার মতে, সোশ্যাল মিডিয়া বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।’
বিভ্রান্তিটা কেমন হতে পারে, সেটার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন স্টুয়ার্ট ল, ‘খেলোয়াড়রা যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কী করছে কিংবা কে কী বলছে, সেদিকে বেশি মন দেয়, আর দলের প্রয়োজন ও মাঠের চাহিদার কথা ভুলে যায়, তাহলে তারা তাদের মূল কাজ থেকে সরে যাচ্ছে।’
আর এ কারণেই বিশ্বকাপ চলাকালে ক্রিকেটারদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে অনুৎসাহিত করেছেন নেপাল কোচ, ‘বিষয়টা অনেক কঠিন। এটা জানি যে, অনেক খেলোয়াড়ই স্পনসরশিপ বা বিজ্ঞাপনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিকেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। ওদের আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছি, “যদি আমরা নিয়মিত ম্যাচ জিততে থাকি, লাইক-ফলোয়ার আপনা-আপনিই বেড়ে যাবে।’”
ইংল্যান্ডকে প্রায় হারিয়ে দেওয়ার পর ইতালির কাছে বাজেভাবে হার, এতে দলের মানসিক দৃঢ়তার ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন ল। আর তাই সোশ্যাল মিডিয়া বাদ দিয়ে ক্রিকেটে মনোযোগ ফেরানোর কথাই বারবার বললেন নেপাল কোচ।
এ প্রসঙ্গে নেপাল কোচের ভাষ্য, ‘নেপালের ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা ম্যাচ জিতছি, এটা যদি দেখাতে পারি, তাহলে (সোশ্যাল মিডিয়ায়) বারবার মুখ দেখানোর দরকার নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় তোমাদের জনপ্রিয়তা তখন এমনিতেই আকাশ ছুঁবে। বিষয়টা আমার জন্য কঠিন, কারণ আমি সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে একেবারেই পুরোনো ধাঁচের মানুষ—আমি এটা খুব একটা বুঝি না। এর নেতিবাচক প্রভাব আমি জানি, কিন্তু ইতিবাচক দিকটা পুরোপুরি বুঝি না। তাই আমিও এ বিষয়ে শিখছি।
স্টুয়ার্ট ল আরও বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছি— যাতে তাদের প্রথম ও প্রধান মনোযোগ থাকে ক্রিকেটে। আর যেসব বিষয়কে ‘অপ্রয়োজনীয়’ মনে করি— আজও সেটা ওদের বলেছি— “অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ক্রিকেটের বাইরে রাখো, যখন ক্রিকেটের বাইরে থাকবে, তখন (ব্যবহার) করো। কিন্তু যখন ক্রিকেটে থাকবে, তখন শুধু ক্রিকেটটাই খেলো।’