দায়িত্ব নিয়েই সাকিব-মাশরাফিকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি গোলকিপার ও সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী - সে খবর এতক্ষণে পুরোনো। বিকালে টেকনোক্র্যাট যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ সন্ধ্যায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন আমিনুল হক। সেখানে ফুটবল ছাড়িয়ে ক্রিকেট নিয়েই যেন বেশি আলাপ হলো। বিসিবি নির্বাচন, বিসিবিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যু থেকে শুরু করে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক দুই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ক্রিকেটাঙ্গনে ফেরানো…অনেক আলাপই হলো।

সাকিব ও মাশরাফির ইস্যুতে আগেও একবার নিজের মত জানানো আমিনুল হক আজ প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরও একই কথাই বলেছেন। সোজাসুজি জানিয়ে দিয়েছেন, সাকিব ও মাশরাফিকে ক্রিকেটে ফিরতে দেখতে চান তাঁরা।

ক্রিকেটের বাইরে সাকিব ও মাশরাফি দুজনেরই রাজনৈতিক পরিচয় আছে – দুজনই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। মাশরাফি ২০১৮ ও ২০২৪ দুই নির্বাচনেই সংসদ সদস্য হয়েছেন, সাকিব ২০২৪ নির্বাচনে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুজনের নামেই অনেক মামলা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলাও আছে। সাকিব এরপর আর দেশে ফেরেননি, মাশরাফি গত দেড় বছরে প্রকাশ্যে আসেননি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে টেকনোক্র্যাট যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: ফেসবুক

দুজনকে ক্রিকেটে ফেরানোর প্রশ্নে আজ সাংবাদিকদের আমিনুল হক বলেন, ‘যেহেতু তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, সেটাকে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে আমিও চাই সাকিব–মাশরাফিরা যেন আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারে। আমরা এই জায়গাটাকে অত্যন্ত নমনীয় ও সহনশীলভাবে প্রাধান্য দিতে চাই।’

মাশরাফি ২০২০ সালের পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে, সাকিব গণঅভ্যুত্থানের পরও জাতীয় দলে খেললেও মামলার কারণে দেশের মাটিতে খেলে অবসরের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে তাঁর। দিন দুয়েক আগে ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সান প্রতিবেদনে লিখেছে, বিসিবি তাঁকে দেশে ও জাতীয় দলে ফেরালে সাকিব ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেই অবসরের পরিকল্পনা করছেন।

তবে সাকিবকে জাতীয় দলে - তার আগে দেশে - ফেরাতে হলে আগে মামলাবিষয়ক জটিলতা দূর করার প্রয়োজন পড়বে। এ নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বললেন, ‘আমরা চাই, যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সে যেন বাংলাদেশে দ্রুত ফিরে আসতে পারে।’

সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচন নিয়েও নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেছেন আমিনুল হক, বলেছেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাঁদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভালো একটি পর্যায়ে যেতে পারি।’