বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর পঞ্চমবার পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন হতে চলেছে আগামী ৭ জুন। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও দলীয় প্রভাব কিংবা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বাইরে কখনও বের হতে পারেনি বিসিবি। প্রতিবারের মত আসন্ন বিসিবি নির্বাচনেও থাকছে না নির্বাচনী উত্তাপ।
বিসিবিকে ক্রম অনুসারে সাজালে সবার আগে বাংলাদেশ, তারপর ক্রিকেট আর সবশেষে আসে বোর্ড। তবে নানান বাস্তবতা, সমালোচনা, ঘটনার পালাবদলে বরাবর ই স্পটলাইটে এসেছে বোর্ড শব্দটি, এর অভ্যন্তরে নির্বাচন, সরকারের প্রভাব সবসময় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সরকার কর্তৃক বিসিবি সভাপতি মনোনীত হতো ২০১২ সাল পর্যন্ত। প্রেক্ষাপটে বদল আসে পরের বছর। বিসিবির ইতিহাসে প্রথম নির্বাচন হয় ২০১৩ সালে, নির্বাচিত সভাপতি হন নাজমুল হাসান পাপন।
নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ড স্বাধীন হয়েও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পিছু ছাড়েনি। ২০১৩ থেকে ২১ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে কখনও কথা উঠেনি, বরং তৎকালীন সরকারের প্রভাবে বিসিবিতে টানা তিনবার সভাপতি হন নাজমুল হাসান পাপন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংষ্কারের ঢেউ উঠলেও বিসিবিতে তাঁর ছোয়া পড়েনি। সবপক্ষকে আলোচনার এক টেবিলে আনতে ব্যর্থ অর্ন্তবর্তী সরকার। শেষমেষ সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগে গত বছরের বিসিবি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে ঢাকার ক্লাবগুলো। এমনকি নির্বাচনের দিন ই-ভোটিং নিয়েও ছিল গুরুতর অভি্যোগ।
গেল ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের বোর্ড ভেঙ্গে অ্যাডহক কমিটি গঠনের শুরু থেকেই চলছে নানান সমালোচনা। এমনকি জাতীয় সংসদ অধিবেশনেও দেখা গেছে তুমুল বিতর্ক।
স্বচ্ছ নির্বাচনের আভাস থাকলেও বিসিবিতে নিরুত্তাপ নির্বাচন হতে চলেছে আগামী ৭ জুন । জেলা ও বিভাগীয় কোটায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রভাব নতুন কিছু নয়। সেখান থেকে ১০ পরিচালকের মধ্যে এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সাত জন। শেষ মূহূর্তে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে দুজনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়েও আছে আলোচনা।
রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে আনার প্রতিশ্রুতির বিপরিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাঝেই আটকে আছে বিসিবি।



