টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। কিন্তু তার আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে এই সংস্করণে ২০২১ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের। অথচ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয়েছিল আয়ারল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে। সেখানেই শেষ। এরপর একে একে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজে অস্ট্রেলিয়ার।
যতটুকু আশা বাকি ছিল, সেটাও শেষ হয়েছে গতকাল জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া। তাতে নিশ্চিত হয়েছে, গ্রুপ ‘বি’ থেকে সুপার এইটে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দল টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারছে না, এ নিয়ে সমালোচনা কম হচ্ছে না।
সমালোচনাটা যে অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ের পর শুরু হয়েছে, এমন নয়। বরং দল ঘোষণার পর থেকেই। শুরুতে দলে না থাকলেও পরপর দুই ম্যাচ হারার পর স্টিভেন স্মিথকে দলে যোগ করে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু স্মিথ যুক্ত হলেও আর লাভ হচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ার এমন পূর্বাপর না ভেবে স্কোয়াড দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মাইকেল ভন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের ভাষায়, স্মিথকে কেন নেওয়া হয়নি, সেটা তাঁর মাথায় ঢুকছে না।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে শুরুতে স্মিথের না থাকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ভন বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া যেহেতু বিদায় নিয়েছে, তাই ওকে (স্মিথ) দেশে ফিরতে হচ্ছে। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুতেই সে কেন দলে ছিল না, সেটা আমার বোধগম্য নয়। বিগ ব্যাশে ও (স্মিথ) যেভাবে খেলেছে, স্পিন সামলাতে ওর দক্ষতা, আবার পেস বোলিংয়েও ওর শট খেলার ক্ষমতা— সব মিলিয়ে ওকে না নেওয়াটা বড় ভুল।’
ভনের কথার যৌক্তিকতা এবারের টুর্নামেন্টে আরও বেশি ফুটে উঠেছে। ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে যখন প্রতিপক্ষরা স্পিন আক্রমণ শুরু করেন, অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি কমে যাচ্ছিল। এই সময় স্মিথের খেলার ধরন কার্যকর হতে পারত বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ ড্যারেন লেম্যান প্রশ্ন তুলেছেন, উপমহাদেশের কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়া দলে এত বেশি পাওয়ার হিটার নেওয়া হয়েছে কোন যুক্তিতে। তাঁর মতে, একজন ‘ইমপ্যাক্ট’ ব্যাটসম্যানের চেয়ে যে স্পিনের বিপক্ষে ভালো, তেমন ব্যাটসম্যান দলে থাকলেই বরং লাভ হতো।
স্মিথকে দলে না নেওয়ার এই বিতর্ক আরও জোরাল করেছে সর্বশেষ বিগব্যাশে স্মিথের পারফরম্যান্স। এবার ৬০ গড় ও ১৬৮ স্ট্রাইকরেটে ২৯৯ রান করে স্মিথ যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন, ৩৫ বছর বয়সেও টি-টোয়েন্টি খেলার সামর্থ্য ভালো মতোই আছে তাঁর।
কিন্তু শুরুতে নির্বাচকদের সুনজর পড়েনি তাঁর দিকে। যতক্ষণে স্মিথকে দলে নেওয়ার বুদ্ধি হয়েছে, ততক্ষণে বাংলা প্রবাদের মতো ‘চোর গরু নিয়ে পালিয়েছে।’