আইসিসিকে ঘিরে বিতর্ক

এক দলকে সুবিধা, বাকি দুই দলকে কেন নয়? পুরোনো প্রশ্নের উত্তর এল এবার

সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলেছে ১ মার্চ। আর সাউথ আফ্রিকা শেষবার মাঠে নেমেছে এর তিনদিন পর। কিন্তু বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলেও ভারত থেকে নিজ দেশে যেতে পারছিলেন না দল দুটির ক্রিকেটার ও কোটিং স্টাফসহ অন্যান্য সদস্যরা।

মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংকটে বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হওয়া ও নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতেই আটকে পড়েন তারা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকার পর বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেও আগেই ভারত ছেড়েছে ইংল্যান্ড। আইসিসির এমন বৈষম্য নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন ডেভিড মিলার-ডি ককের মতো ক্রিকেটাররা। এমনকি আইসিসির সমালোচনা করেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভনও।

নানান সমালোচনা ও জলঘোলা হওয়ার পর অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সাউথ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা দেশে ফিরছেন। এরই মধ্যে উইন্ডিজের কয়েকজন ক্রিকেটার বিমানে উঠেছেন। সাউথ আফ্রিকাসহ উইন্ডিজের বাকি ক্রিকেটাররা ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ভারত ছাড়বেন। এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে আইসিসি।

আর এ দুদলের দেশে ফেরায় বিলম্ব হওয়ার কারণ হিসেবে আইসিসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল! এ কারণে দল দুটির দেশে ফেরা ‘অনেক বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ’ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যে খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছেন, তারা দ্রুত দেশে ফিরতে চান- এটা আমরা বুঝি।’

ক্রিকেটাররা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে না পারায় যে হতাশা তৈরি হয়েছে, সেটা অনুধাবন করতে পেরেছে উল্লেখ করে বিবৃতি আরও বলা হয়েছে, ‘এই বিলম্বের মূল কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংকট, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক ও ধারাবাহিক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে আকাশপথ বন্ধ থাকা, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, বিকল্প রুট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং শেষ মুহূর্তে বাণিজ্যিক ও চার্টার ফ্লাইট বাতিল বা পুনর্নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো জড়িত। এসব আইসিসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং এর ফলে প্রতিটি ভ্রমণ পরিকল্পনা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।’

আইসিসি জানিয়েছে, আটকে পড়া দলগুলোর দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে তারা বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থা, চার্টার অপারেটর, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাউথ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা আজ রাত থেকেই নিজ দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন এবং আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই দলটির সবাই রওয়ানা দেবেন বলে আশা করছে আইসিসি।

অন্যদিকে উইন্ডিজের ৯ জন এরই মধ্যে ভারত ত্যাগ করেছেন। বাকি ১৬ জন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভারত ছাড়ার ফ্লাইট ধরবেন বলে জানিয়েছে আইসিসি। তবে ভ্রমণ সূচিতে কোনো পরিবর্তন এলে আইসিসি তা জানাবে বলে উল্লেখ করেছে।

আইসিসি এটাও জানিয়েছে, দল দুটির দেশে প্রত্যাবর্তন পিছিয়ে যাওয়ার কারণ চলমান অস্থির অবস্থা, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা শঙ্কা ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই। এর বাইরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব মন্তব্য করা হচ্ছে, সেসবকে নিছক গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আইসিসি এটাও জানিয়েছে, সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য নেওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে ইংল্যান্ড পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রতিটি দলের জন্য পরিস্থিতি আলাদা উল্লেখ করে আইসিসি বলছৈ, ভিন্ন ভ্রমণ রুট এবং আলাদা শর্ত বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।