৪ এপ্রিল ২০১২। আইপিএলের পঞ্চম মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। এরপর থেকেই যেন আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিততে ভুলে যায় মুম্বাই। একে একে পেরিয়ে যায় আরও ১৩টি মৌসুম। কিন্তু নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর জেতা হয় না মুম্বাইয়ের।
অবশেষে সেই আক্ষেপের অবসান ঘটাতে পেরেছে আইপিএলে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ওয়াংখেড়ে গতকাল রোববার কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে মুম্বাই। এবারের আইপিএলে এটাই ছিল মুম্বাইয়ের প্রথম ম্যাচ। মুম্বাইয়ের আক্ষেপ ঘোচানো প্রথম ম্যাচের জয়টাও হয়েছে মনে রাখার মতো।
ওয়াংখেড়ে আগে ব্যাটিং করে আজিঙ্কা রাহানে (৪০ বলে ৬৭) ও আঙ্কক্রিশ রাঘুভানশির (২৯ বলে ৫১) ফিফটি এবং ফিন অ্যালেনের ১৭ বলে ৩৭ ও শেষ দিকে রিঙ্কু সিংয়ের ২১ বলে অপরাজিত ৩৩ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ২২০ রান তুলেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
বড় লক্ষ্য পেয়েও দমে যায়নি মুম্বাই। দলটির কাজ সহজ করে দেন দুই ওপেনার রায়ান রিকেলটন (৪৩ বলে ৮১) ও রোহিত শার্মা (৩৮ বলে ৭৮)। দুজনে মিলে মোটে ১১৫ ওভারেই ১৪৮ রান তোলেন উদ্বোধনী জুটিতে। তাতে ম্যাচের পাল্লা হেলে যায় মুম্বাইয়ের দিকে। শেষ পর্যন্ত মুম্বাই ৪টি উইকেট হারালেও ইনিংসের ৫ বল হাতে থাকতেই জয়ের দেখা পায়।
প্রায় ১৪ বছর পর আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়- সেটাও রেকর্ড গড়ে। আইপিএলে এর আগে কখনোই এত বেশি রান তাড়া করে জেতেনি মুম্বাই। আর সব দল মিলিয়ে, আইপিএল ইতিহাসে রান তাড়ায় এর চেয়ে বেশি রান তাড়ায় জয় আছে মোটে ৫টি।
আর কলকাতা যে মুম্বাইয়ের প্রিয় প্রতিপক্ষ, সেটা পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত আইপিএলে ৩৬ বারের দেখায় কলকাতাকে ২৫ বার হারাল মুম্বাই। কোনো নির্দিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির বিপক্ষে কোনো দলের সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ডও এটি।