মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন আইপিএল চেয়ারম্যান

ডিসেম্বরের নিলামে রেকর্ডই গড়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। আইপিএল ইতিহাসে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দল পেয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার। কিন্তু জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলঘোলা কম হয়নি। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বয়কট করেছিল। ওই ঘটনার প্রায় তিন মাস পরে এসে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

নিলাম থেকে মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর থেকেই ভারতীয় উগ্রপন্থীদের রোষানলে পড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার দাবিতে ভারতের অনেক জায়গায় বিক্ষোভও হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সময়টাতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতিও ঘটনাটিতে জ্বালানি যোগ করে। শেষ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজকে বাদ দেয় কলকাতা।

এ প্রসঙ্গে আইপিএল চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক সময় বিষয়গুলো যেভাবে ঘটে বা সামনে আসে, সেটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আমার মনে হয় না যে, দৈনন্দিন ক্রিকেট পরিচালনায় সরকার কোনো আগ্রহ বা কোনো ভূমিকা রাখে। সরকার সামগ্রিকভাবে ক্রিকেটকে সমর্থন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে হ্যাঁ, কখনো কখনো আমাদের চারপাশে কিছু ঘটনা ঘটে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে এমনটা আর হবে না।’

এরপর আইপিএল চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, মোস্তাফিজকে বাদ দিতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা ছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ধুমাল বলেছেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই বলতে পারি, এটা দুর্ভাগ্যজনক। এর বাইরে আমার তেমন কিছু জানা নেই।’

আইপিএল চেয়ারম্যান কিছু না জানালেও গত জানুয়ারিতে ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআইকে বিসিসিআই সচিব জানান, ভারতীয় বোর্ডের পক্ষ থেকেই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে মোস্তাফিজের আইপিএল খেলা না হলেও বর্তমানে আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএল খেলতে পাকিস্তানে আছেন বাংলাদেশি পেসার। সেখানে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলছেন মোস্তাফিজ।