সংকটের শুরুটা চলতি বছরের শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এরপর তো নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। দুই দেশের বোর্ডের মধ্যকার সম্পর্ক অবনতি হতে হতে পৌঁছে যায় তলানিতে।
তবে টানাপোড়েন কাটিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর এ জন্য বিসিসিআইকে একটি চিঠিও দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাগরণ এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে।
জাগরণের প্রতিবেদন অনুসারে, দুই দেশের আসন্ন সিরিজ নিয়ে যে জটিল অবস্থা বিরাজ করছে, সেটা দূর করে আরও নতুন করে কিছু যোগ করা যায় কিনা, সেসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানাচ্ছে, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরই এই উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। এই চিঠি বাস্তববাদী অবস্থান বিবেচনা করেই দিয়েছে বিসিবি। দুই বোর্ডেরই বড় ধরনের স্বার্থ এতে জড়িত বলে উল্লেখ করেছে জাগরণ।
আর্থিক স্বার্থটা কোথায়? আগামী সেপ্টেম্বরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারত দলের। কিন্তু দুই বোর্ডের সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে ওই সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
এর আগে গত বছর ভারত দল বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও আসেনি। এখন যদি দুই বোর্ডের সম্পর্ক উন্নয়ন হয়, তাহলে স্থগিত হওয়া সিরিজটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এছাড়া ২০২৭ এশিয়া কাপের আয়োজক বাংলাদেশ। ওই টুর্নামেন্টটির কথা মাথায় রেখেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা স্বাভাবিক করতে চাইছে বলে উল্লেখ করেছে জাগরণ।
এদিকে বিসিবির পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো বিষয়টি নিয়ে নীরব অবস্থায় আছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা সিরিজের ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। ভারত সরকার সবুজ সংকেত মিললেই বিসিবির সঙ্গে বরফ গলতে পারে বিসিসিআইয়ের, এমনটাই জানিয়েছে জাগরণ।