বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত শেষ করেছে। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)-এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধান(বিসিবির গঠনতন্ত্র) সংশোধনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান জানান, তদন্তে স্বার্থে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল তাঁর বক্তব্য জানার জন্য কিছু তিনি তাতে সাড়া দেননি।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এনএসসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমাদের একটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমরা তদন্ত সম্পন্ন করেছি এবং আজ প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কমিটি এবং নিরপেক্ষভাবে মতামত প্রদান করা হয়েছে বলে জানান অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যা পেয়েছি তার ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষ একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছি, কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ করিনি। আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছি। প্রতিবেদন দেখলে আপনারা বিস্তারিত বুঝতে পারবেন—আমরা কাউকে লক্ষ্য করে কিছু বলিনি, বরং নিরপেক্ষ মতামত ও সুপারিশ দিয়েছি।’
কমিটির ডাকে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাড়া দেননি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কাউকে অভিযুক্ত করে নয়, আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আমরা চিঠি লিখেছিলাম। উনাকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়, বরং বক্তব্য শোনা এবং উনি কিছু বলতে চান কি না তা জানার জন্য। আমরা উনাকে সময় দিয়েছিলাম এবং অপেক্ষা করেছি, কিন্তু উনি আমাদের কাছে আসেননি।’
প্রতিবেদনে কী আছে তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমরা এটি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। তারা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করবে।’
গত ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এনএসসি। মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে কি না– সেটি খতিয়ে দেখাই ছিল কমিটির মূল দায়িত্ব। তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হলেও, নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।