পিএসএলে বেদম মার খেলেন রিশাদ, রেকর্ডেও বিস্বাদ

পিএসএলে গতকাল সোমবার ভুলে যাওয়ার মতো একটা দিন কাটিয়েছেন রিশাদ হোসেন। মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে ব্যাট হাতে যেমন ব্যর্থ হয়েছেন, ছন্দ খুঁজে পাননি বল হাতেও। আর রিশাদের বেহাল দিনে ম্যাচটা বড় ব্যবধানেই হেরেছে তাঁর দল রাওয়ালপিন্ডিজ।

টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রানের সংগ্রহ পায় রিশাদের দল। রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের ২২ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মুলতান।

ভুলে যাওয়ার মতো দিন কাটানো রিশাদ ব্যাট হাতে ১ রান করার পর ৩ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। স্বীকৃত ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে এর আগে কখনোই এত রান দেননি রিশাদ।

এবারের পিএসএলে রিশাদ গতকালের আগে আরও দুদিন ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে এক ম্যাচে ০ রানে অপরাজিত থাকার পর আরেক ম্যাচে মোটে ৩ রান করেন। গতকাল রানখরা কাটানোর ভালো সুযোগ ছিল রিশাদের সামনে।

বাংলাদেশি তারকা যখন উইকেটে যান, তখন ইনিংসের ১৫তম ওভারের খেলা চলে। রাওয়ালপিন্ডিজের স্কোরবোর্ডে তখন ৬ উইকেটে ১২৭ রান। কিন্তু রিশাদ ব্যাটহাতে তেমন কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি। উইকেটে টিকে ছিলেন মোটে ৩ বল। ফয়সাল আকরামের বলে স্টিভেন স্মিথের হাতে ধরা পড়ে থেমে যায় রিশাদের ৩ বলে ১ রানের ইনিংস।

পরে বল হাতে শুরুটা ভালো হলেও সেটা ধরে রাখতে পারেননি রিশাদ। বাংলাদেশি লেগ স্পিনার সপ্তম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে গিয়ে মোটে ৪ রান দেন। কিন্তু নিজের দ্বিতীয় ও দলের ১০ ওভারে চার ছক্কাসহ হজম করেন ২৬ রান। এরপর ১৫তম ওভারে আরেকবার বোলিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। ওই ওভারে ২ ছক্কাসহ আরও ১৬ রান দেন রিশাদ।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এটি ছিল রিশাদের ১১২তম ম্যাচ। এর মধ্যে জাতীয় দলের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৫৫টি। বাকি ৫৭টি ম্যাচ খেলেছেন স্বীকৃত ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি। এই ৫৭টি ম্যাচের মধ্যে গতকালই সবচেয়ে খরুচে বোলিং করেছেন রিশাদ।

স্বীকৃত ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে এর আগে রিশাদ এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৪৫ রান দিয়েছিলেন গত বছরের পিএসএলে। তখন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলছিলেন রিশাদ। আর ওই ম্যাচও প্রতিপক্ষ ছিল মুলতান। তবে সে ম্যাচে ৪ ওভার বোলিং করেছিলেন বাংলাদেশি লেগস্পিনার। আর গতকাল ৩ ওভারেই সেটি ছাড়িয়ে গেলেন রিশাদ।

তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়েও বেশি রান রিশাদ দিয়েছেন তিনবার। এর মধ্যে দুবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে (৪ ওভারে ৫০ ও ৫৫) , আরেকবার প্রতিপক্ষ ছিল ভারত (৪ ওভারে ৫৫)।