এত গরমেও কীভাবে জোরে বোলিং করেন নাহিদ রানা?

‘প্রথম বল থেকেই ও জোরে বল করে গেছে। শেষ বলটাও ১৪৫ কিলোমিটার/ঘণ্টার বেশি গতিতে করেছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একদম এত পেসে বল করে যাওয়া অবশ্যই বেশ কঠিন একটা কাজ’- ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ রানার গতির প্রশংসায় এভাবেই পঞ্চমুখ ছিলেন নিউজিল্যান্ড ওপেনার নিক ক্যালি।

বাংলাদেশি পেসারের প্রশংসা করবেন না-ই বা কেন? মিরপুরে গতকাল সোমবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে বলতে গেলে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন নাহিদ রানা। গতির সঙ্গে দুর্দান্ত বাউন্স ও ইয়র্কারে নাজেহাল করেছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের। তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার।

বৈশাখের তীব্র গরমও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি রানার পেস বোলিংয়ে। বরং রানা যেন আরও বেশি তেজ নিয়ে বোলিং করেছেন। তা এত গরমেও কীভাবে জোরে বল করেন রানা? রহস্যটা নিজেই খোলাসা করেছেন ডানহাতি পেসার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, অনুশীলনের বাইরেও ফিটনেস নিয়ে কাজ করেন বলেই ক্লান্তি ছুঁয়ে যেতে পারে না রানাকে।

সংবাদ সম্মেলনে রানা বলেছেন, ‘শুরুতে আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ফিট রেখেছে। এই জিনিটসটা (ফিটনেস) নিয়ে অনুশীলনের বাইরেও অনেক কাজ করি। ট্রেনারের সঙ্গে কাজ করি, তাদের সঙ্গে কথা বলি—কীভাবে ফিটনেসটা আরও বাড়ানো যায়। যেন মাঠের মধ্যে অনুভব করি, বোলিং করেও টায়ার্ড না হই। অফ (সিজনের) সময় জিমে বলেন, রানিংয়ে বলেন, নিজেকে মেইনটেইন বলেন (তা করি)।’

এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটা খুব বেশি ভালো যায়নি রানার। সেদিন ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়েছেন তিনি। ওই ম্যাচটা হেরেছিল বাংলাদেশ। আর গতকাল ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন রানা। ৬ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশও সিরিজে সমতায় ফিরেছে।

দুই ম্যাচে দুই ধরনের বোলিং দেখা গেছে রানার কাছ থেকে। তা প্রতিপক্ষের রান আটকানো, নাকি উইকেট শিকার- কোনটাতে বেশি মনোযোগ থাকে? এমন প্রশ্নের জবাবে ডানহাতি পেসার বলেছেন, ‘পরিস্থিতির চাওয়া অনুযায়ী। ধরুন, আমার কাছে যদি মনে হয় দলে অবদান রাখা যাবে কিংবা এমন পরিস্থিতি যদি থাকে উইকেট নিতে হবে; আমি মনে করি, ওই পরিস্থিতি মেনে বোলিং করা উচিত।’

নাহিদ রানা যোগ করেন, ‘আমি সব সময় একটা জিনিসই চেষ্টা করি আগের ম্যাচে যে ভুলটা করেছি, পরের ম্যাচে একই ভুল করব না। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি চেষ্টা করব সামনের ম্যাচে ভুল যত কম করে দলকে সাহায্য করা যায়।’

দলের জয়ে অবদান রাখাই রানার প্রধান লক্ষ্য- সেটা উঠে এসেছে কয়েকবার। ২৩ বছর বয়সী এ পেসার বলেছেন, ‘আমি সবসময় চেষ্টা করি দলের জন্য ইমপ্যাক্ট পারফরম্যান্স করার। সেটা হতে পারে এক স্পেল, এক ওভার। দলের জন্য এক ওভারও ভালো করতে পারলে আমি খুশি। দলের জয়ে সাহায্য করতে পারলে আমার খুশি লাগে।’