চট্টগ্রামেই শেষবার এভাবে ব্যাট উঁচিয়ে ধরেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মাঝে ২ বছর ১ মাস ১০ দিন কেটে গেছে। এর মধ্যে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছেন আরও ২০টা ওয়ানডে। এ সময়ে তিনবার ফিফটির দেখা পেলেও সেগুলোকে তিন অঙ্কে নিয়ে যেতে পারছিলেন না শান্ত।
অবশেষে সেই চট্টগ্রামেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন আজ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১১৪ বলে সেঞ্চুরি আদায় করেছেন ২৭ বছর বয়সী এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শান্তর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিতে ভর করে বড় সংগ্রহের পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখার সময় ৪১ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৮ রানে ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ।
অথচ শান্ত যখন উইকেটে যান, তখন রীতিমতো ধুঁকছিল বাংলাদেশ। উইল ও’রুর্কের বোলিং তোপে ইনিংসের ১৩ বলের মধ্যেই দুই ওপেনার সাইফ হাসান (০) ও তানজিদ তামিমকে (১) হারায় বাংলাদেশ। ৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে শুরুতে ঢাল হয়েই দাঁড়ালেন শান্ত। সৌম্যকে নিয়ে টিকে থাকার লড়াই চালাতে থাকলেন।
কিন্তু সৌম্য বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারলেন না। ইনিংসের নবম ওভারে ও’রুর্কের শিকার হয়ে ফিরলেন বোল্ড হয়ে। বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেট ৩২ রান। বাংলাদেশ কি আজ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ছে- এমন শঙ্কাও উঁকি দিতে থাকে।
তবে লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে সেই শঙ্কার মেঘ দূর করেন শান্ত। দুজনে মিলেই শুরুতে দেখেশুনে ব্যাটিং করতে থাকেন। তখন যেন দুজনের উদ্দেশ্য একটাই- রান না হোক, উইকেট দেওয়া যাবে না!
সেই মন্ত্রেই আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ইনিংসের ২৫তম ওভারে ১০০র দেখা পায় বাংলাদেশ। এর একটু পরেই ফিফটি (৭০ বলে) তুলে নেন শান্ত। শান্ত-লিটন চতুর্থ উইকেট জুটিটাও ততক্ষণে তিন অঙ্ক (১২৮ বলে) ছুঁয়েছে।
দুজনে মিলে বাংলাদেশকে টানতে থাকেন। রানের গতিও বাড়ে। দলের রান দেড়শ পেরোয় ইনিংসের ৩২তম ওভারের শেষ বলে। এর মধ্যে লিটন দাসও ফিফটি আদায় করেন, ৭১ বলে। আজকের আগে লিটন দাস শেষবার ওয়ানডেতে ফিফটি পেয়েছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে।
কিন্তু সেই ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি লিটন। দলকে ১৯২ রানে রেখে লেনক্সের বলে বোল্ড হন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। তাতে লিটনের ইনিংস থেমে যায় ৯১ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রানে। শান্ত-লিটন চতুর্থ উইকেট জুটি থামে ১৬০ রানে। ওয়ানডে চতুর্থ উইকেট বিবেচনায় এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের জুটি।
লিটনের বিদায়ের একটু পরে, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত (১১৪ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কা)।