শান্ত আর লিটনই ১৮১, বাংলাদেশ আড়াই শ-র একটু বেশি

৯ রানে ২ উইকেট, ৩২ রানে ৩- উইল ও’রুর্কের বোলিং তোপে ইনিংসের শুরুতেই বড় ধরনের বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই বিপদকে স্থায়ী হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরুতে প্রতিরোধ ও পরে পাল্টা আক্রমণ করে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি (১১৯ বলে ১০৫ রান) আদায় করেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান।

 শান্তকে যোগ্য সঙ্গ দেন লিটন দাস (৯১ বলে ৭৬ রান)। দুই সংস্করণের দুই অধিনায়কের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৬০ রান পায় বাংলাদেশ। শান্ত-লিটনের ব্যাটিংয়ে গড়ে দেওয়া ভিতে দাঁড়িয়ে শেষ দিকে ক্যামিও দেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ।  

অথচ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল বিভীষিকাময়। ও’রুর্কের ইনিংসের দ্বিতীয় বলে রানের খাতা খোলার আগেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম অবশ্য রানের খাতা খুলেছেন। কিন্তু ১ এর বেশি নয়! ইনিংসের তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ও’রুর্কের আরেকটা লেংন্থ ডেলিভারিতে বোল্ড হন তামিম।

৯ রানে ২ উইকেট বিদায়ের এক প্রান্তে ঢাল হয়ে দাঁড়ান শান্ত। কিন্তু অন্য প্রান্তে ও’রুর্কের শিকার হয়ে বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়ান সৌম্য সরকার (১৮)। ৩২ রানে ৩ উইকেট নেই বাংলাদেশের।

ইনিংসের শুরুর গল্পটা যদি কিউই পেসার ও’রুর্কের হয়, পরের গল্পটা শান্ত লিটনের। অনেকটা ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েই শুরুতে টিকে থাকার মন্ত্রে রয়েসয়ে খেলতে থাকলেন দুজনে। এরপর সুযোগ বুঝে হাত খুললেন। সে পথে আগের ম্যাচেও ফিফটি আদায় করা শান্ত আজ ফিফটি ছুঁলেন ৭০ বলে।

লিটনও হাঁটলেন একই গতিতে। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রায় আড়াই বছর পর ফিফটি করলেন ৭১ বলে। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথেই এগোতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু দলকে ১৯২ রানে রেখে বিদায় নেন ৯১ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ রান করা লিটন। তাতে লিটন-শান্তর চতুর্থ উইকেট জুটি থেমে যায় ১৬০ রানে।

লিটন তিন অঙ্ক ছুঁতে না পারলেও অন্যপ্রান্তে শান্ত সেঞ্চুরি আদায় করেন দুই বছরের বেশি সময় পর (১১৪ বলে)। তবে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি শান্ত। লেনক্সের বলে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে শান্তর ইনিংস থামে ১০৫ রানে (১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কা)।

এরপর শেষদিকে তাওহীদ হৃদয়ের ২৯ বলে অপরাজিত ৩৩ ও মিরাজের ২২ রানের সুবাদে আড়াই শ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে শুরুতেই ৩ উইকেট পাওয়ার পর আর কোনো উইকেট শিকার করতে পারেননি ও’রুর্কে। এছাড়া বেন লিস্টার ও লেনক্স দুটি করে এবং ফক্সক্রফ্ট একটি উইকেটের দেখা পেয়েছেন।