৬ উইকেটের জয় নিউজিল্যান্ডের

শরীফুলে জ্বলা আশার আলো, জ্যাকবস ঝড়ে নিভে গেল

লক্ষ্যটা আহামরি দিতে পারেনি বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচের পুরো ১৫ ওভারও টিকে থাকতে পারেননি লিটন দাস-তাওহিদ হৃদয়রা। শেষ ১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

এ রানের মধ্যে নিউজিল্যান্ডকে আটকাতে বল হাতে অবিশ্বাস্য কিছু করতে হতো বাংলাদেশি বোলারদের। শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের ৩ উইকেট শিকার করে একটা সূচনাই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন শরীফুল ইসলাম। পরে মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেট শিকারে যোগ দিলে ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়েছিল কিউইদের।

তাতে নিভু নিভু আশার প্রদীপটা কিছুটা জ্বালানি পেয়েছিল বটে। তবে সেটা খুব বেশি সময় কাজে লাগেনি। বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট পঞ্চম উইকেট জুটির ৪০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭১ রানে ইনিংসের ২০ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচটা উইকেটে জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। এর মধ্যে জ্যাকবস একাই ৩১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬২ রানের তাণ্ডব চালান। আর সেই তাণ্ডবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ কিউইরা শেষ করল ১-১ সমতায়।

এর আগে চট্টগ্রামের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জিতেছিল। একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ম্যাচটি ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে। আজ মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও বৃষ্টি হানা দিয়েছিল। তাতে ম্যাচ নেমে আসে ১৫ ওভারে। আর সেই ১৫ ওভার শেষ হওয়ার আগেই গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ কিউইদের মোটে ১০৩ রানের লক্ষ্য দিতে পারে!

কিন্তু এই স্বল্প রান তাড়ার পথটাকেই শুরুতে কঠিন বানিয়েছিলেন শরীফুল। রান তাড়ায় শেখ মেহেদীর করা ইনিংসের প্রথম ওভারে কিউইরা ৯ রান নিলেও পরের ওভারের প্রথম বলেই বাংলাদেশকে উদযাপনের উপলক্ষ্য এনে দেন শরীফুল।

দারুণ এক ডেলিভারিতে ওপেনার কাটেনে ক্লার্ককে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন বাঁহাতি পেসার। শরীফুলের করা একই ওভারের শেষ বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন তিনে নামা ক্লেভার। দুজনেই আউট হয়েছেন ১ রান করে।

ইনিংসের চতুর্থ আর নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে আবারও উইকেটের দেখা পান শরীফুল। এবার ফেরান ১৪ বলে ২৩ রান করা ওপেনার টিম রবিনসনকে। নিউজিল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে তখন ২৩ রানে ৩ উইকেট। পরের ওভারের শেষ বলে নিক ক্যালিকে ফিরিয়ে চতুর্থ আঘাত হানেন মেহেদী হাসান।

বাংলাদেশি বোলারদের গল্প সেখানেই শেষ। পরের গল্পটা শুধুই বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফ্টের। দুজনের মিলে জুটি গড়ে একেবারে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন জ্যাকবস। অন্যপ্রান্তে ১৫ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থেকে জ্যাকবসকে যোগ্য সঙ্গ দেন ফক্সক্রফ্ট।