শচীনকেও গেলেন টপকে, এক ম্যাচেই ৩ রেকর্ড ভাঙলেন সূর্যবংশী

সিনিয়র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের চতুর্থ ম্যাচেই ব্যাটিং তাণ্ডব চালালেন ভারতের বৈভব সূর্যবংশী। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিন ইনিংসে ১৪, ১৩ ও ১৫ রান করার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে খুব একটা সময় নেননি তিনি। জিম্বাবুয়ের এলোমেলো বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে হ্যারারেতে চার ছক্কা ও চার চারে মাত্র ১৮ বলে তাণ্ডব চালিয়ে অর্ধশতক পূরণ করেন সূর্যবংশী। 

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে রেকর্ড গড়ার ঠিক পরের বলেই আউট হন তিনি। এই ফিফটি করার পথে শচীন টেন্ডুলকারের ১৯৮৯ সালের রেকর্ডসহ ৩টি বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন সূর্যবংশী। 

২৩ জুলাই অনুযায়ী বৈভবের বয়স ১৫ বছর ১১৮ দিন। ফুল মেম্বার দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে প্রথম ফিফটি করার রেকর্ড এখন তাঁর।

টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বয়সে ফিফটি:

    ১৫ বছর ১১৮ দিন — বৈভব সূর্যবংশী (ভারত) বনাম জিম্বাবুয়ে, হারারে, ২০২৬

    ১৬ বছর ৫৬ দিন — লুইস ব্রুস (জিব্রাল্টার) বনাম মাল্টা, আলবারগারিয়া, ২০২১

    ১৬ বছর ৭৬ দিন — কেভিন চাড্ডা (ইন্দোনেশিয়া) বনাম সুইডেন, বালি, ২০২৬

    ১৬ বছর ৮৯ দিন — আলুসিন তুরেই (সিয়েরা লিওন) বনাম ঘানা, বেনোনি, ২০২৩

    ১৬ বছর ১১৮ দিন — তেনজিন রাবগে (ভুটান) বনাম চীন, কুয়ালালামপুর, ২০২৩

ক্রিকবুজের তথ্যমতে, পূর্ণাঙ্গ সদস্য দলের ব্যাটারদের মধ্যে আগের রেকর্ডটি ছিল আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজের (১৭ বছর ২৯৬ দিন, বনাম জিম্বাবুয়ে, চট্টগ্রাম, ২০১৯)।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ফিফটি (পূর্ণাঙ্গ সদস্য দল):

    ১৫ বছর ১১৮ দিন — বৈভব সূর্যবংশী (ভারত) বনাম জিম্বাবুয়ে, হারারে, ২০২৬ (টি-টোয়েন্টি)

    ১৬ বছর ২১৩ দিন — শচীন টেন্ডুলকার (ভারত) বনাম পাকিস্তান, ফয়সালাবাদ, ১৯৮৯ (টেস্ট)

    ১৬ বছর ২১৪ দিন — শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান) বনাম শ্রীলঙ্কা, নাইরোবি, ১৯৯৬ (ওয়ানডে)

    ১৭ বছর ৩৯ দিন — মুশতাক মোহাম্মদ (পাকিস্তান) বনাম ভারত, কলকাতা, ১৯৬০ (টেস্ট)

    ১৭ বছর ৬৩ দিন — মোহাম্মদ আশরাফুল (বাংলাদেশ) বনাম শ্রীলঙ্কা, কলম্বো, ২০০১ (টেস্ট)

সব মিলিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ ফিফটিধারী ব্যাটারও এখন বৈভব। তাঁর আগে ১৬ বছর হওয়ার আগে ফিফটি করা একমাত্র ব্যাটার ছিলেন নেপালের কুশল মাল্লা (১৫ বছর ৩৪০ দিন, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে)।

এর আগে পেসার মায়াঙ্ক যাদবের দারুণ প্রত্যাবর্তনে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে ১২৫ রানে আটকে রাখে ভারত। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবার জাতীয় দলে ফিরে শুরু থেকেই গতির ঝড় তোলেন মায়াঙ্ক। ম্যাচের প্রথম বলেই ব্রায়ান বেনেটের উইকেট নেন তিনি। প্রথমে অনফিল্ড আম্পায়ার আউট না দিলেও ডিআরএসে সিদ্ধান্ত ভারতের পক্ষে আসে।

অস্ত্রোপচারের পর ফিরে আসা মায়াঙ্ক নিয়মিত ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করেন। পঞ্চম ওভারে ৬ রানে ফেরান ডিওন মায়ার্সকে। অভিষেক হওয়া অশোক শর্মা প্রথম ওভারে রান দিলেও পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান।

এর আগে, টসে জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা। এরপর ৩২ করে ফেরেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আর এতে জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। শেষ দিকে রাইয়ান বার্লের ২৫ আর ওয়েসলি মাধেভেরের ৩৪, আর তাদিওয়ানাশে মারুমানির ২৭ রানে ভর করে ১২০ রানের ঘর পার করে জিম্বাবুয়ে।

ভারতের পক্ষে রবি বিষ্ণোই ২৪ রানে ১ উইকেট নেন।