একজন বিদেশি কোচ। বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার দেড় মাসের মধ্যেই সেই কোচের মুখে আতঙ্কের কথা। বলছেন— ‘আমার কাছে কোনো টাকা নেই। স্ত্রী-সন্তানের জন্য টাকা পাঠাতে পারছি না। আমি আমার জীবনের জন্য শঙ্কিত।’
কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো— বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বলছে, ‘কোচের বেতন দেওয়া হয়েছে।’ তাহলে প্রশ্ন— বেতন পেয়েও কেন এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন জেরার্ড জোনস? আসলেই কী ঘটেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই ইংলিশ কোচের সঙ্গে?
গত জুনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ জেরার্ড জোনস। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব সামনে রেখে যশোরে চলছে দলের প্রস্তুতি। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু সোমবার সকালে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এই কোচ। ওই পোস্টে জোনস লিখেছেন, ‘মনটা খুব খারাপ। পরিবার ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমি চিন্তিত।’
এরপর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। বলেন— ‘আমি বেতনের অপেক্ষায় আছি। আমার কাছে কোনো টাকা নেই। স্ত্রী ও সন্তানদের খরচ পাঠাতে পারছি না।’ শুধু আর্থিক সংকট নয়, নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কার কথা জানান এই ইংলিশ কোচ। লেখেন— ‘আমি আমার জীবনের জন্য ভয় পাচ্ছি।’
একজন জাতীয় দলের কোচের এমন অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— তাহলে বাংলাদেশ ফুটবলে কী ঘটছে? তবে বাফুফের বক্তব্য ভিন্ন। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার জানান— চুক্তি অনুযায়ী ১০ তারিখের মধ্যেই জেরার্ড জোনসের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এরপর কী হলো— সেটা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই ফেডারেশনের কাছে। ইমরান হোসেন নিজেই বলছেন, ফেসবুকে কেন এসব লেখা হলো, তা তাঁর বোধগম্য নয়। আর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যার কথাও তাঁরা জানেন না।
তাহলে কি এটা স্রেফ ভুল বোঝাবুঝি? নাকি জোনসের এমন পোস্টের পেছনে আছে অন্য কোনো রহস্য? তবে এর কিছুক্ষণ পর আবারও পোস্ট দেন জোনস। এবার স্বীকার করেন— তিনি টাকা পেয়েছেন। কিন্তু সমস্যা শেষ হয়নি। সেই পোস্টে জোনস লিখেছেন— ‘আমি অর্থ পেয়েছি, তবে এর সঙ্গে আরও কিছু জটিলতা রয়েছে। এমন কিছু বিষয় সামনে এসেছে, যেগুলো আগে আমাকে জানানো হয়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যও অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় অস্বস্তিকর কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানান তিনি। দাবি করেন— অনেকে তাঁর গাড়ির কাছে এসে টাকা চেয়েছে, গাড়ি ঘিরে ধরেছে।
এরপর ফেসবুক লাইভে এসে আরও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জোনস। বলেন— ‘প্রতিদিন নতুন নতুন ধাক্কা আসছে। মনে হচ্ছে আমি আমার পরিবারকে হতাশ করেছি।’ তিনি জানান, তিনি শুধু চান— কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়া নিজের কাজটা করতে।
জোনসের এ কান্না কি নিছক আর্থিক জটিলতার, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো কারণ— যা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি? বাফুফে বলছে, বেতন দেওয়া হয়েছে। কোচ বলছেন, সমস্যা মেটেনি। দুই পক্ষের বক্তব্যে ফারাক স্পষ্ট— কিন্তু আসল সত্যিটা কী? জেরার্ড জোনসের অভিযোগের রহস্য উন্মোচন হবে কীভাবে— সেটাই এখন দেখার বিষয়।