৩ ম্যাচের ওয়ানডে ও ৩ টি-টোয়েন্টি খেলতে গত বছরের আগস্টেই বাংলাদেশ সফর করার কথা ছিল ভারত দলের। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় দুই বোর্ডের সমঝোতায় এক বছর পিছিয়ে যায় সিরিজটি। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মাটিতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হওয়ার কথা দুদল। আর সাদা বলের এ দুই সিরিজ খেলতে ২৮ আগস্ট বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার কথা ভারতের।
কিন্তু ভারত দলের এই বাংলাদেশ সফর নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত দল বাংলাদেশে আসবে কি না, পুরোপুরি নিশ্চিত নয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বরং বাংলাদেশে আসার অনুমতি ও স্পষ্ট ধারণা নিতে ভারত সরকারের দ্বারস্থ হচ্ছে বিসিসিআই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।
বিসিসিআইয়ের এক সূত্রে ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সফর নিয়ে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে চায় না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বরং এ ব্যাপারের সরকারের অনুমতি ও নির্দেশনার জন্য শিগগির যোগাযোগ করবেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআই সূত্র ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে (ভারতের বাংলাদেশ সফর) আমরা কাজ করছি এবং বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে অনুমতি (পেতে) এবং স্পষ্ট ধারণার জন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করব। এই মুহূর্তে আমরা নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে আমরা শিগগিরই (ভারতের) সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’
তবে এই সফরের ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে যে বিসিসিআইকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেটাও জানিয়েছে সূত্রটি, ‘বিসিবি আমাদের চিঠি দিয়েছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। শিগগিরই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।’
ভারতের বাংলাদেশ সফর করার কথা ছিল গত বছরই। কিন্তু সে সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় দুই বোর্ডের সমঝোতায় সিরিজটি এক বছর পিছিয়ে যায়। যদিও ‘আন্তর্জাতিক সূচি ও সময়ের সুবিধা’কে সিরিজ পেছনোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে দুই বোর্ডের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। ভারতে উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেয় বিসিসিআই। সেই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ। এমনকি নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতেও অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। ভারত থেকে সরিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু আইসিসি রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলেইনি বাংলাদেশ।
ওই ঘটনায় দুই বোর্ডের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকলেও বাংলাদেশে নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্পর্কে উন্নতি হতে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতেই অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে।



