কত টাকার মালিক ১৫ বছরের সুরিয়াভানশি?

মাত্র ১৫ বছর বয়স। যে বয়সে অনেকেই স্কুলের গণ্ডি পেরোতে ব্যস্ত, সেই বয়সেই বৈভব সুরিয়াভানশি হয়ে উঠেছেন ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি। ব্যাট হাতে একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন। আর মাঠের বাইরেও তৈরি হচ্ছে কোটি টাকার বাজার।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ৫টি বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি। বিজ্ঞাপনের বাজারে তাঁর মূল্য ছাড়িয়েছে কোটি রুপি। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বয়সেই আসলে কত আয় করছেন বৈভব? কত টাকার মালিক তিনি?

বিহারের ছোট শহর সমস্তিপুর থেকে উঠে আসা বৈভব সুরিয়াভানশির গল্পটা যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। মাত্র ৫ বছর বয়সে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আগ্রহ দেখে বাবা সঞ্জীব সুরিয়াভানশি বাড়ির পেছনের জায়গা পরিষ্কার করে তৈরি করে দিয়েছিলেন অনুশীলনের ব্যবস্থা। পেশায় কৃষক বাবা বুঝেছিলেন, ছেলের প্রতিভাকে এগিয়ে নিতে হলে বড় সুযোগ দরকার। তাই নিজের একটি জমিও বিক্রি করেছিলেন বৈভবের ক্রিকেটের জন্য।

মাত্র ৮ বছর বয়সে ছেলেকে নিয়ে চলে যান পাটনায়। সেখানে শুরু হয় কঠোর অনুশীলন। দিনের পর দিন প্রায় ৪৫০ বল খেলেছেন বৈভব। আর সেই পরিশ্রমেই মাত্র ১২ বছর বয়সে জায়গা করে নেন বিহার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০২৫ আইপিএলের নিলামে ইতিহাস গড়ে সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে দল পান। মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে বৈভবকে দলে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। আইপিএলে অভিষেক ম্যাচের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে জানান দেন নিজের আগমনের। আর তৃতীয় ম্যাচেই মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে গড়েন আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী সেঞ্চুরিয়ানের রেকর্ড। মাত্র ১৪ বছর ৩২ দিন বয়সে সেই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।

আর সর্বশেষ আইপিএলে তো সবচেয়ে বেশি রান, সর্বোচ্চ ছক্কাসহ অসংখ্য রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন।

সুরিয়াভানশির ব্যাট যত জোরে কথা বলছে, ততই বাড়ছে তাঁর বাজারমূল্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৯ থেকে ১৩ কোটি টাকা। এর বড় অংশ এসেছে আইপিএল চুক্তি, ম্যাচ ফি এবং বিজ্ঞাপনের আয় থেকে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই পাঁচটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিকেট ব্যাট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসএস ব্যাটস। এই চুক্তি থেকে বছরে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা আয় করছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া পুষ্টিবিষয়ক ব্র্যান্ড কমপ্ল্যানের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে। গুগল পে-এর যুবভিত্তিক প্রচারণাতেও অংশ নিয়েছেন বৈভব।

আইপিএলে সতীর্থ ধ্রুব জুরেলের সঙ্গে রেড বুলের একটি প্রচারণাতেও দেখা গেছে তাঁকে। এমনকি ঝাড়খণ্ড সরকারের স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও করা হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে, বৈভবের একটি বিজ্ঞাপনী চুক্তির মূল্য এখন কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এত অল্প বয়সে বিপুল অর্থ আর জনপ্রিয়তার চাপ সামলাতে সতর্ক তাঁর পরিবার। একসঙ্গে অনেক বিজ্ঞাপনে না গিয়ে ধীরে এগোতে চান তাঁরা।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই যেভাবে মাঠ আর মার্কেট— দুই জায়গাতেই আধিপত্য বিস্তার করছেন সুরিয়াভানশি, তাতে অনেকেই বলছেন— এ যেন ক্রিকেট ইতিহাসেই নতুন এক যুগের সূচনা। সুরিয়াভানশিকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদও উঁচু হচ্ছে। এই বিশাল প্রত্যাশার চাপ সামলে সুরিয়াভানশি কতদূর যেতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।