শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড কি অপসারণ করা হয়েছে? বিসিবি কী বলছে

ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও অবকাঠামোর নাম পরিবর্তন হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ হয়েছিল শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড নামে।

এদিকে গতকাল বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে, এই স্ট্যান্ডের নাম অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ নিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও ফেসবুকে প্রতিবাদ জানান।

তবে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে বিসিবি। এক বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের স্বার্থে নামফলকটি সাময়িক সরিয়ে ফেলা হলেও ওই স্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। ওই নাম পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিবৃতিতে বিসিবি উল্লেখ করেছে, ‘অনলাইন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনের বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান বোর্ড প্রশাসন মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে (এসবিএনসিএস) জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের নামে থাকা স্ট্যান্ডের নাম বাতিল করেছে। বিসিবি স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, এসবিএনসিএসসহ দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভেন্যুর কোনো স্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

বিবিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিসিবির আয়োজিত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচে সব স্ট্যান্ডের নাম যথাযথভাবে প্রদর্শন করা হয় এবং সেগুলো উল্লেখও করা হয়।’

চলতি বছরের শুরুতে বর্তমান বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর মিরপুরে এখন পর্যন্ত তিনটি আন্তর্জাতিক সিরিজের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ম্যাচে শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডসহ সব স্ট্যান্ডের নাম মাঠে উপস্থিত দর্শক এবং টেলিভিশনে ম্যাচ দেখা দর্শকদের জন্য স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল বলে জানিয়েছে বিসিবি। এছাড়া ম্যাচের টিকিট ও ইভেন্টের প্রচারণামূলক উপকরণেও স্ট্যান্ডগুলোর নাম উল্লেখ করা হয় বলে জানানো হয়েছে বিসিবির বিবৃতিতে।

তাহলে নামফলক সরানোর গুঞ্জন ছড়াল কীভাবে? এ প্রসঙ্গে বিসিবি উল্লেখ করেছে, ‘নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে শেরে বাংলাসহ অন্যান্য ভেন্যুতে স্ট্যান্ডের নাম লেখা সাইনেজ (ফলক) মাঝে মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সবসময় ম্যাচ না থাকার দিনগুলোতে করা হয়।’

বিবৃতির শেষ অংশে বিসিবি উল্লেখ করেছে, ‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিসিবি তাঁর নামে একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অনুমানের সুযোগ নেই। বিসিবি মনে করে, এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ও মিথ্যা বক্তব্য ছড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে বিসিবি এবং বর্তমান বোর্ডের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিসিবি কঠোর ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।’